‘পাকিস্তানের প্রক্সি খেলোয়াড় হিসেবে বিএনপি এখন দেশে ষড়যন্ত্র করছে। ২৫ মার্চ পাকিস্তানিবাহিনী বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছিল। সেদিন আমাদের পুলিশ, ইপিআর ছাত্র-জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিএনপি এ দিনটি পালন করে না।’ রবিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘গণহত্যার কালরাত্রি সমাবেশ ও আলোর মিছিল’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ প্রমুখ। এসময় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘মনি ভাইয়ের (শেখ ফজলুল হক মনি) বাসায় আমরা সেদিন ছিলাম। সেখান থেকেই গুলির শব্দ পাচ্ছিলাম। প্রথম গুলির শব্দের পরই বেতারে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ আমরা শুনতে পেয়েছিলাম। দুঃখের বিষয় এই দিবসটি বিএনপি পালন করে না। এই দেশ বিরোধীদের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বাঙালি জাতিকে দমানোর জন্যই এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানিরা সফল হতে পারেনি। বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়ে তুলে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের প্রক্সি খেলায়োর হিসেবে বিএনপি এখনও ষড়যন্ত্র করে চলছে।’
সমাজকল্যাণমন্ত্রী মেনন বলেন, ‘১৯৭১ সালের এইদিনে পল্টনে আমরাই শেষ জনসভা করেছিলাম। বাংলাদেশ স্বাধীন করার স্লোগান উঠেছিল সেখানে। যে স্লোগান বঙ্গবুন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পরই সারাদেশে উঠেছিল। কিন্তু আমরা কেউই ভাবতে পারিনি এমন হত্যাযজ্ঞ চালানো হবে। আমাদের পুলিশ, ইপিআর, ছাত্র-জনতা সেদিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনী সে প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল সত্য কিন্তু আমরা শুরুতেই প্রতিরোধ গড়েছিলাম।’
তিনি এসময় ১৯৭১ সালের সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশ সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করেন। মন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমরা এখনও স্বীকৃতি পাইনি। আমরা দাবি জানাই বাঙালির ওপর চালানো পাকিস্তানিদের গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়া হোক।’
এরপর ঠিক ৯টায় শহীদ মিনার এলাকায় সব আলো নিভিয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে গণহত্যার ৪৮তম দিবস উপলক্ষে ৪৮টি মশাল প্রজ্জ্বলন করা হয়। পাশাপাশি মোমবাতি জ্বালিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে গণহত্যার স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে মোমবাতিগুলো রাখা হয়।







