যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনে স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপন করছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিবসটি উপলক্ষে কেক কাটেন রাষ্ট্রপতি।
সোমবার (২৬ মার্চ) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল বঙ্গভবনের সবুজ মাঠ। খ্যাতিমান শিল্পীদের গান মাতিয়ে রাখে উপস্থিত অতিথিদের। লাল-সবুজ পাতা দিয়ে তৈরি একটি পতাকা অনুষ্ঠানে অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিকাল পৌনে ৫টায় স্ত্রী রাশিদা খানমকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনের মাঠে আসেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে পৌঁছান তার কিছুক্ষণ আগে। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানাও।
রাষ্ট্রপতি সস্ত্রীক মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় জাতীয় সংগীত। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কুশল বিনিময় করেন। পরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বঙ্গভবনের মাঠে ভিভিআইপি এনক্লোজারে স্বাধীনতা দিবসের কেক কাটেন রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান।
পরে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশি অতিথি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, গণমাধ্যমের সম্পাদক, তিন বাহিনীর প্রধানসহ সমারিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদসহ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।
ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ব্রিটিশ হাই কমিশনার এলিসন ব্লেইক, চীনের দূত ঝ্যাং জুয়ো, ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ভ্যাটিক্যানের দূত জর্জ কোচেরি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত রেনসে টিরিংক, জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের এ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অতিথি হয়ে। প্রতিবেশী ভারতের প্রেসক্লাবের সভাপতি গৌতম লাহিড়ী ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় কুমারও বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায়, রফিকুল আলম, ফাহমিদা নবী, হৈমন্তী রক্ষিত, কোনাল ও হায়দার হোসেন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শোনান।








