আজ সোমবার সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ১০টার আগেই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। আর পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে অপেক্ষা করছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীরা হলে ঢুকে যাওয়ার পর থেকেই সেখানেই অবস্থান করছেন অনেক অভিভাবক। কেন এই উদ্বিগ্নতা জানতে চাইলে তারা জানিয়েছেন, ‘সন্তানরা ঠিকমতো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার হলে ঢুকলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অস্থিরতার কারণে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। এছাড়া ছেলেমেয়েরা পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিলে টেনশন কাজ করে।’
জানা গেছে, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী। তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। আর ১৪ থেকে ২৩ মে’র মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যাণ্ড কলেজের সামনে ফুটপাতে বসে আছেন এক মা। মেয়েকে পরীক্ষার হলে ঢুকিয়ে দিয়ে কেন্দ্রের একপাশে বসে দোয়া করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে ভাল শিক্ষার্থী। কিন্তু পাবলিক পরীক্ষায় আসার পর অন্য ধরনের টেনশন কাজ করে। কত রকমের ঝামেলা হতে পারে, যার সঙ্গে হয়তো সে জড়িত না, কিন্তু এসবের প্রভাব পড়ে। এসব ভয় থেকে দোয়া করছি। প্রথমদিন পার হয়ে ভয় অনেকটা কমে যায়।’
কেন্দ্র থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছেন এক বাবা। তিনি অফিস ছুটি নিয়েছেন জানিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেয়ের আবদার, আজকে বাবা-মা দু’জনের ছুটি নিতে হবে। পরীক্ষা এখন শুধু প্রস্তুতি নিয়ে এসে অংশগ্রহণ করা নয়। শিক্ষার্থীরা ভয়ে থাকে- কখন কোন পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায় আর তার রেজাল্ট খারাপ হয়ে যায়। এই শঙ্কার নিয়ে আমরা পরীক্ষা দেইনি কিন্তু আমাদের সন্তানেরা এরমধ্যেই আছে।’
এদিকে মোহাম্মদপুরে পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কলেজ থাকায় এ এলাকায় অভিভাবকদের ভিড় বেশি। শিক্ষার্থীরা প্রায় আধাঘণ্টা আগে পরীক্ষার হলে ঢুকে পড়ায় অভিভাবকরা অপেক্ষায় ছিলেন চূড়ান্ত ঘণ্টার। পরীক্ষার সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন মা বলেন, ‘যতক্ষণ পরীক্ষা শেষ না হবে, ততক্ষণ বাসায় গিয়ে স্থির থাকতে পারব না। পাশেই তাজমহল রোডে বাসা কিন্তু এখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সন্তানের শিক্ষা জীবনের যে কয়েকটি ধাপ রয়েছে সেগুলোর সবচেয়ে বড়টিতে অংশ নিচ্ছে আজ সে। আল্লাহ সহায়।’








