নৌযান মালিক, শ্রমিক ও জনগণের সচেতনার ফলে নৌদুর্ঘটনা কমে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেন, ‘বিগত তিন বছরে কোনও লঞ্চডুবি হয়ন।’ বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০১৮’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌমন্ত্রী বলেন, ‘নৌদুর্ঘটনা কমানো ও নৌযান নির্মাণের ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ হচ্ছে। আগে নৌযান তৈরি করে মালিকরা নকশা অনুমোদন করে নিতেন। এখন আর সে সুযোগ নেই, এখন আগে নকশা অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে নৌপরিবহন অধিদফতরের মনিটরিং জোরদার করা হয়। নকশার বাইরে কোনও জাহাজ নির্মাণ করা যায় না।’
লঞ্চে এখন লিফট ও রোগীদের জন্য ইনসেন্টিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে শাজাহান খান বলেন, ‘নৌ-নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সরকার নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। নদীগর্ভে স্থাপিত অবৈধ ডকইয়ার্ড উচ্ছেদেও কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নূর-ই-আলম চৌধুরী, সংসদ সদস্য বেগম জেবুন্নেছা আফরোজ, নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার সভাপতি মাহবুবউদ্দিন আহমদ,বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক ও নৌপরিবহন অধিদফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার এসএম নাজমুল হক।
অনুষ্ঠানে নৌ-সেক্টর উন্নয়ন ও সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ১৩ ব্যক্তি ও সংস্থাকে ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, নিরাপদ ও সুষ্ঠু নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০৯ সাল থেকে দেশে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপন শুরু হয়েছে। এ বছর ৫ থেকে ১১ এপ্রিল দেশব্যাপী দশমবারের মতো ‘নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ’ পালন করা হচ্ছে। নৌযান ও নৌপথের নিরাপত্তা বিধানের শুরুত্বের প্রতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করাই এ সপ্তাহের মূল উদ্দেশ্য। এ বছর নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারিত হয়েছে—‘নৌশিল্পে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, যাত্রা হবে নিরাপদ এটাই আমাদের চাওয়া।’
৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিশু একাডেমিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রাবন্দরে নৌ-সপ্তাহের অনুষ্ঠান। উদ্বোধন অনুষ্ঠান ছাড়াও রয়েছে নৌ-র্যালি, দেশের বিভিন্ন নৌ-বন্দরে ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শনের মাধ্যমে নৌ-সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি, নৌ-সেক্টরে বিভিন্ন কাজে অবদান রাখার জন্য পুরস্কার, সারাদেশে বিনা রেজিস্ট্রি নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা।








