প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোটা সংস্কারের আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের সমন্বয়কারী বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অনির্দিষ্টকাল চলবে।’
বুধবার (১১ এপ্রিল) সকাল পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। সংবাদ সম্মেলন শেষে চারুকলা ও টিএসসিতে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা।
হাসান আল মামুন বলেন, 'কেউ আন্দোলনকারীদের মারধর করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানাতে হবে। সবাইকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। কিছু অনুপ্রবেশকারী এই আন্দোলনকে বানচাল করার চেষ্টা করছে। যেখানে সেখানে তারা সহিংসতা করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিক ভাইদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেছে ও তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।’ সাংবাদিকদেরও অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সমর্থনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছেন। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন, সড়ক অবরোধ, মিছিল ও বিক্ষোভ করছেন তারা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবি ‘যৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান। বুধবার বেলা ১২টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কোটাবিরোধী’ শব্দ ব্যবহার করা যৌক্তিক নয়। তবে কোটা সংস্কারের দাবি যৌক্তিক। আমি কোটা সংস্কারের এই যৌক্তিক দাবি সমর্থন করি এবং সরকারের প্রতি বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানাই।’
তিনি বলেন, 'কোটা সংস্কারের আন্দোলন গণতান্ত্রিক। এই আন্দোলনের প্রতি আমি পূর্ণ সমর্থন জানাই। আমি আইজিপি'র (পুলিশের মহাপরিদর্শক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছি, ক্যাম্পাসে যেন পুলিশ প্রবেশ না করে। তবে সবার নিরাপত্তার দাবি জানাই।' এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে সরকারের প্রতি দ্রুত কোটা সংস্কার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনাসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। গত রবিবার (৮ এপ্রিল) থেকে আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে। এদিন শাহবাগে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালালে নতুন করে সারা দেশে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কোটা সংস্কারের বিষয়টি বিবেচনার জন্য সরকার আগামী ৭ মে পর্যন্ত সময় চেয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অন্য দাবিগুলো হলো- কোটার শূন্য পদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, চাকরি পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একবারের বেশি নয়, কোটায় বিশেষ নিয়োগ বন্ধ এবং চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অভিন্ন করতে হবে।
আরও পড়ুন- ছাত্রদের দখলে ঢাকার সড়ক








