পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশের অনুষ্ঠানস্থলে থাকছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সবধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে র্যাব-পুলিশের সদস্যরা।
কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে বর্ষবরণের উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য র্যাব-পুলিশের একাধিক ইউনিট তৎপর রয়েছে। এছাড়াও অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশের বসতি ও আবাসিক হোটেলগুলোতে তল্লাশি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগের সব মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যম মনিটরিংয়ের কাজ চলছে। র্যাবের গোয়েন্দা টিম এ বিষয়ে কাজ করছে। সেই সঙ্গে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার ক্রাইম ইউনিটসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুক, টুইটার ও ব্যক্তিগত ও পাবলিক ব্লগ মনিটরিংয়ের কাজ চলছে। এছাড়াও অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমও মনিটরিং করা হচ্ছে। যদি কেউ পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান এবং বাঙালির এই উৎসবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য উসকানি দেয় তবে সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ইতোপূর্বে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে কিছু যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। আগের এ অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এ বছর কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। যৌন হয়রানির মতো অপরাধ ঠেকাতে রাজধানীর রমনা ও হাতিরঝিলে র্যাবের দুটি মোবাইল কোর্ট রাখা হবে।
রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে থাকবে পুলিশের মোবাইল কোর্ট থাকবে। যৌন হয়রানি ও ধূমপানসহ অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
র্যাব সূত্র জানায়, বৈশাখের উৎসব পালনে সব বয়সী মানুষ অংশগ্রহণ করে থাকে। যেহেতু এসব অনুষ্ঠানস্থলে সড়কগুলো বন্ধ থাকায় সবাই হেঁটে চলাচল করে। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি রমনা ও হাতিরঝিলে বয়স্ক, নারী ও শিশুদের বিশ্রামের জন্য বৈশাখী লাউঞ্জ তৈরি করা হয়েছে।
র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘মিডিয়াতে যাতে কেউ উসকানি ছড়াতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন মিডিয়া পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কে কী বলছে, সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিকসহ সোশ্যাল মিডিয়াগুলো পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। কেউ যদি উসকানিমূলক আচরণ করে তাহলে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো রমনা বটমূল সংলগ্ন স্থানে বৈশাখী লাউঞ্জ করেছি। যেখানে ক্লান্ত হওয়ার পর বয়স্ক ও নারী-শিশুরা বিশ্রাম নিতে পারবেন। এ ধরনের ব্যবস্থা আমরা হাতিরঝিলেও রাখব।’
র্যাব সূত্র জানায়, সার্বিক নিরাপত্তার জন্য রমনা বটমূলের পাশাপাশি হাতিরঝিলেও কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও র্যাবের স্টাইকিং ফোর্স ক্যাম্প রয়েছে। রমনা লেকে ও হাতিরঝিলে র্যাব সদস্যরা জেড স্কি দিয়ে পেট্রোল করবে। পাশাপাশি আকাশেও হেলিকপ্টার পেট্রোলিং করা হবে। সাদা পোশাকে, ফুট পেট্রোল, অবজারভেশন পোস্ট থাকবে। সিসিটিভির মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানস্থল পর্যবেক্ষণ করা হবে।
রমনা বটমূল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাতিরঝিল, রবীন্দ্র সরোবর ছাড়াও রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা দেবে। অনুষ্ঠানস্থল ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় র্যাব-পুলিশের টহল থাকবে। এরইমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘বৈশাখের অনুষ্ঠানস্থলে এবার থাকছে পুলিশের ইভাকুয়েশন প্ল্যান। যেকোনও ধরনের সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ইভাকুয়েশন প্ল্যান কাজ করবে।’
মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে থাকবে পুলিশের সদস্যরা। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শোভাযাত্রা বের হবে। যারা মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবেন, তারা চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন। পথে কোনও অবস্থায় শোভাযাত্রার বেষ্টনির মধ্যে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এছাড়াও কোনও কোম্পানিকে তার পণ্যের বা কোম্পানির বিজ্ঞাপন মঙ্গল শোভাযাত্রায় দিতে দেওয়া হবে না।
বিকাল ৫টার পর বাইরে কোনও বৈশাখী অনুষ্ঠান চলবে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষ যাতে সুন্দরভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে পারে, সেজন্য আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। আপনারা সন্ধ্যার পর সবাই যে যার বাড়িতে ফিরে যাবেন। বিকাল ৫টার পর উন্মুক্ত স্থানে কোনও অনুষ্ঠান চলবে না।’








