দ্বৈত নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র না দেওয়া এবং তাদের ভোটাধিকারও না থাকার দাবি তুলেছেন বিশিষ্টজনরা। বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকগণকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটাধিকার প্রয়োগ’ সংক্রান্ত সেমিনারে এই দাবি জানান তারা।
নির্বাচন কমিশন আয়োজিত এ সেমিনারে সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা।
সেমিনারে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারপারসন জি এম কাদের বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশে পাবলিক অফিসের দায়িত্ব গ্রহণ করতে দেওয়া উচিত নয়। যারা পাবলিক অফিসের দায়িত্ব সামলাবেন তাদের শুধুমাত্র বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।’
তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘এর আগে দুই-একজন দ্বৈত নাগরিক মন্ত্রী হয়েছেন। এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে দেখা উচিত।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে ইটালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান শিকদার বলেন, ‘প্রবাসী ও অভিবাসী (দ্বৈত নাগরিক) এক বিষয় নয়। ভোটাধিকার প্রবাসীরা পেতে পারেন। কারণ, তারা অন্য দেশের নাগরিক নন। তবে অভিবাসীরা দেশ ছাড়েন অন্য দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে। তারা যে দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন সেখানকার ভোটাধিকারসহ সব সুবিধাই ভোগ করেন। তবে, কে ভোটাধিকার পাবেন; সেটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এটা নিয়ে আরও আলোচনা হওয়া উচিত। আমি শুনেছি— যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশিরা ভোটাধিকারের বিষয়ে সোচ্চার।’
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ মিশনের উপপ্রধান মাহবুব হাসান সালেহ বলেন, যারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছে তাদেরকে বাংলাদেশে ভোটাধিকার দেওয়া যায় না।
সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জানান, প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘আমরা লাখ লাখ বাংলাদেশিকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে দিয়েছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি— আমরা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশিদের নির্বাচন কমিশনের সময় অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে পারবো।’
উল্লেখ্য, প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। প্রকল্পটি সৌদি আরব দিয়ে শুরু হবে।
তবে সৌদি আরব প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান। যে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা কম সেখানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন,‘এটি কোনও ছোট জায়গা, যেখানে বাংলাদেশি কম; সেখান শুরু করতে পারলে ভালো হয়। তাহলে আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারবো।’
এনআইডি (জাতীয় পরিচয় পত্র) উইং মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকট এবং বৈধ নাগরিক নিশ্চিতকরণ।’
সুপারিশমালায় তিনি বলেন, আমরা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ থেকে কাজটি শুরু করতে পারি।’
প্রবাসীদের ভোটাধিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আরেকটি চ্যালেঞ্জ। কারণ, বিদেশে প্রচুর বাংলাদেশি অবস্থান করছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সহিংসতা থামানো ও বিপুল অর্থব্যয় অন্যতম চ্যালেঞ্জ।’
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা বক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের এসব সুচিন্তিত পরামর্শ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভাববে। এছাড়াও আরপিও’র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধারা তুলে ধরে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।








