দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নির্ভুল অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পন্ন করতে নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট রয়েছে দুদকের। এই ইউনিট প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুর্নীতিবাজদের তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানে সহায়তা করে আসলেও এবার কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করবেন দুদক গোয়েন্দারা।
বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) দুদক কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত কমিশনের এক পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য জানান দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘দুদকের গোয়েন্দা শাখা কেবল দুর্নীতিবাজদের পেছনেই গোয়েন্দাগিরি করবে না, কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়েও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করবে।’
কমিশনের সব সমন্বিত জেলা কার্যালয়, বিভাগীয় কার্যালয় এবং প্রধান কার্যালয়ের মহাপরিচালক থেকে উপপরিচালক পদমর্যাদার সব কর্মকর্তাদের নিয়ে চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে এসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালকরা তাদের বিগত বছরের সব কার্যক্রম কমিশনের সামনে উপস্থাপন করেন। এসময় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেন।
দুদকের মামলায় কথিত পলাতক আসামিদের পরিসংখ্যান দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘দুদকের মামলার অনেক আসামিই আইন-আদালতে আত্মসমর্পণ না করে, আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কীভাবে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে? আপনাদের দায়িত্ব কী? আপনাদের পেছনে রাষ্ট্রের ব্যয়িত অর্থের ভ্যালু অব মানি থাকলে, হয়তো এভাবে আসামিরা ঘুরে বেড়াতে পারতো না। যে কোনও বিষয়ে কমিশন সর্বোচ্চ দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে তা বাস্তবায়নে এত বিলম্ব কেন?’
বক্তব্যে চেয়ারম্যান প্রতিটি মামলা দায়েরের পর সঙ্গে সঙ্গে এজাহারের কপি কমিশনের আইন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেন। যাতে কমিশন মামলা দায়েরের পরবর্তী সব ধরনের আইনানুগ প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে মনিটরিং করতে পারে।
সম্প্রতি কিছু প্রতারক দুদক কর্মকর্তাদের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। এতে দুদকের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘প্রতারক চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে কমিশনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছে।’ এসব প্রতাকদের আইনের আমলে আনার বিষয়ে সজেকার (সমন্বিত জেলা কার্যালয়) উপপরিচালকদের নির্দেশনা দিয়ে দুদক চেয়ারম্যান। এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে। তাই এ বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়েও সচেতনতা সৃষ্টি করতে সজেকার উপপরিচালকদের নির্দেশনা দেন।
প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারির কথাও জানান দুদক চেয়ারম্যান।
সভায় দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে হলে সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ কমিশন অভিযোগ অনুসন্ধান বা তদন্তের গুণগত পরিবর্তন আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানান কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম।
পর্যালোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক (আইন) মো. মঈদুল ইসলাম, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী, মহাপরিচালক (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং মো. আতিকুর রহমান খান, মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মো. জয়নুল বারী, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আক্তার হোসেন,বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবু সাঈদ, পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন প্রমুখ।








