জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার সময় অনেকেই মনে করেছিল বাংলাদেশ এককভাবে এর সমাধান করতে পারবে না। কিন্তু আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখান থেকে জঙ্গি নির্মূল করতে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
বৃহস্পতিবার (৩ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাব সদর দফতরে র্যাব ফোর্সেসের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন করে র্যাব জনগণের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছে। জঙ্গিরা নাশকতায় জড়িত থেকে দেশে যে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও র্যাব কঠোর অবস্থানে থেকে তা দমন করতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মের নাম নিয়ে একটি চক্র কিছু মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। যারা বিত্তবান তারাও এতে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের বোঝানো হচ্ছে, মানুষ হত্যা করতে পারলে তারা বেহেশতে যাবে। জাতির জন্য এটি একটি দুর্ভাগ্য।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যখন কিছু মানুষ বিপথে যাচ্ছিল, নাশকতায় জড়িয়ে পড়ছিল, তখন তাদের রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও র্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমরা জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেবো না। এজন্য সম্মিলিতভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে। আমাদের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিরা আসছেন। তাদের নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও র্যাব এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাদের ধন্যবাদ জানাই।’
র্যাবের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদের সঙ্গে এখন মাদকদ্রব্যও বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা। মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে র্যাব অনেক সফলতা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও মাদকদ্রব্য রোধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে বলে আহ্বান জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরবনে জলদস্যুরা অনেকেই আত্মসমর্পণ করছে। তাদের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তারা যাতে সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চোরাকারবারি, জালনোট, ভিওআইপি, ভেজাল দ্রব্য এসব অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে র্যাব ইতোমধ্যে কাজ করছে। এসবের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে থাকতে। বাংলাদেশের মানুষের জীবন মান উন্নত করতে। দেশের কোনও মানুষ যেন অশিক্ষিত, বেকার, অন্ধকারে না থাকে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
আরও পড়ুন- নির্বাচনে আসবে কিনা রাজনৈতিক দলের নিজেদের সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রী








