পরীক্ষা শেষ হওয়ার দু’মাসের মধ্যেই প্রকাশিত হলো বহুল কাঙ্খিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা-২০১৮ এর ফলাফল। এবার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে একলাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। গত বছর এ পরীক্ষায় ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল একলাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ বাড়লেও পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এ পরীক্ষা শুরু থেকেই টানা ১২টি বিষয়ের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল, যা নিয়ে সমালোচনায় পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকার।
রবিবার সকালে গণভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় অভিভাবকের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ অকৃতকার্য হলে বকাঝকা দিয়ে লাভ নেই। তাদের অনুপ্রাণিত করতে হবে, তারা যেন ভবিষ্যতে ভালো করতে পারে। অভিভাবকদের প্রতি এ আহ্বান জানাই।’
পরে বেলা ১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংবাদ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এসময় পাসের হার কমার ক্ষেত্রে প্রশ্নফাঁসের কোনও প্রভাব পড়েনি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘মূল্যায়নে সমতা আনার কারণে এমনটি হয়েছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পরীক্ষার খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ইতিবাচক দিক হলো পাসের হার কমেছে। আমরা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছি। মূল্যায়নে সমতা আনার জন্য এই পরিবর্তন। পরীক্ষার খাতা শিক্ষকদের ভালো করে দেখার ফলে পাসের হার কমেছে।’
বেড়েছে জিপিএ-৫
গতবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেড়েছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে একলাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী। গতবার এই সংখ্যা ছিল একলাখ চার হাজার ৭৬১ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬ হাজার।
টানা ৭ বছর জিপিএ ৫-এ এগিয়ে ছেলেরা
টানা ৭ বছর ধরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে ছাত্ররা। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৫৫ হাজার ৭০১ জন এবং ছাত্রী ৫৪ হাজার ৯২৮ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্র ছিল ৫৩ হাজার ৪৮৮ ছাত্র ও ছাত্রী ছিল ৫১ হাজার ২৭৩ জন। ২০১৬ সালে ৫৭ হাজার ৭২৭ জন ছাত্র ও ৫২ হাজার ৩৪ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এ ছাড়া, ২০১৫ সালে ৬০ হাজার ৩৭০ জন ছাত্র ও ৫১ হাজার ৫৩১ জন ছাত্রী, ২০১৪ সালে ৭৭ হাজার ৫৫১ ছাত্র ও ৬৪ হাজার ৭২৫ ছাত্রী, ২০১৩ সালে ৫২ হাজার ৩৯২ ছাত্র ও ৩৮ হাজার ৮৩৪ ছাত্রী এবং ২০১১ সালে ৪৫ হাজার ৮৬০ ছাত্র ও ৩০ হাজার ৮৮৯ ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
টানা তিন বার পাসে মেয়েরা এগিয়ে
টানা তিন বারের মতো পাশের হারে মেয়েরা এগিয়ে। এবার ছাত্রদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর ছাত্রীদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। এর আগে গত বছর ছেলেদের পাশের হার ছিল ৭৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং মেয়েদের ছিল ৮০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০১৬ সালেও ছেলেদের পাশের হার ছিল ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং মেয়েদের ছিল ৮৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
বিদেশি কেন্দ্রে পাসের হার কমেছে
ঢাকা বোর্ডের অধীন বিদেশের ৮টি কেন্দ্রে গড় পাসের হার ৯৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত বছর ওই আট কেন্দ্রে পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। ফলে গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। ওই ফল থেকে জানা যায়, বিদেশি আট কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৪৫০ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৪২২ জন। শতভাগ পাস করেছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এসব কেন্দ্রের মোট ৯০ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডে কমেছে পাসের হার, বেড়েছে জিপিএ-৫
এ বছর কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ড উভয়েই কমেছে পাসের হার। ফলাফল থেকে দেখা যায়, এ বছর কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৯৬ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে, এ বছর মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৭৬ দশমিক ২০ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার কমেছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। আবার উভয় বোর্ডেই গতবারের তুলনায় জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে। কারিগরি বোর্ডে এবছর জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ৪ হাজার ৪১৩, যা গতবার ছিল ৪ হাজার ১৭৮ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী বেড়েছে ২২৬ জন। আবার মাদ্রাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও বেড়েছে। এ বছর মাদ্রাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৩৭১ জন, যা গতবছর ছিল ২ হাজার ৬১০ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী বেড়েছে ৭৬১ জন।
১০৯ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ
দেশের ২৮ হাজার ৫৫৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনও শিক্ষার্থী পাস করেনি। অন্যদিকে, একহাজার ৫৭৪টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সবাই পাস করেছে। গতবার শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ২৬৬। এবার সেই সংখ্যা ৬৯২টিতে নেমে এসেছে।








