চাহিদা অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ টিসিবি’র (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) ট্রাকে পণ্য বিক্রি কম রয়েছে। অনেককেই চাহিদা অনুযায়ী পণ্য না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিনের জন্য একটি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে যে পরিমাণের পণ্য সরবরাহ করা হয় তা চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। তাই অনেকেই পণ্য না পেয়ে ফিরে গেছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে ট্রাকে করে টিসিবি’র পণ্য বিক্রেতা আরিফ হোসেন।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রেসক্লাবের মতো জায়গায় মাত্র ৩০ কেজি খেজুর নিয়ে এসেছি। যা ঘণ্টা খানেক সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। মসুর ডালও শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ এখনও ক্রেতা রয়ে গেছেন অনেক।
রবিবার (৬ মে) থেকে সারাদেশে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হলেও সেদিন রাজধানীর সব জায়গায় এ সেবা পৌঁছাতে পারেনি টিসিবি কর্তৃপক্ষ। কারণ ব্যাখ্যা করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় অনেকেই ব্যাংকের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। তাই হয়তো অনেক ডিলারই সঠিক সময়ে পণ্য তুলতে পারেননি। তবে সোমবার (৭ মে) এ সংকট কেটে গেছে বলে দাবি করেছেন টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবীর।
সোমবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে ট্রাকে করে খোলা বাজারে টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে দেখা গেছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, সচিবালয়ের সামনে টিসিবির ট্রাক দেখা গেছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেক ক্রেতা।
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মোবারক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পত্রিকায় খবর দেখে আজ দুদিন (রবি ও সোমবার) ধরে রাজধানীর শাহজাহানপুর বাজারের আশেপাশে ঘুরছি। কিন্তু কোথাও টিসিবির ট্রাক দেখলাম না। সয়াবিন তেল কিনতে এসেছিলাম, কিন্তু পেলাম না।’
অপরদিকে মাদারটেকের বাসিন্দা রোকসানা খানম বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নন্দীপাড়া কৃষি ব্যাংকের সামনে গেলেও সেখানে কোনও ট্রাক দেখিনি। জানতে চাইলে স্থানীয় দোকানদাররা জানান, বেলা ১১টার দিকে ট্রাক এসে পণ্য বিক্রি করে ১২টার দিকে চলে গেছে।’
উল্লেখ্য, রাজধানীতে ৩২টি, চট্টগ্রামে ১০টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৫টি এবং বাকি জেলাগুলোর ২টি করে স্থানে ট্রাকে করে ৫ ধরনের নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি।
প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা, দেশি চিনি ৫৫ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা, মসুর ডাল (মাঝারি সাইজ) ৫৫ টাকা, খেজুর ১২০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। সপ্তাহে শুক্র এবং শনিবার এই দুইদিন বাদে বাকি ৫ দিন নির্ধারিত স্থানে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।
টিসিবি সূত্র জানিয়েছে, একজন ভোক্তা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি মসুর ডাল, ৫ লিটার সয়াবিন তেল, ৫ কেজি ছোলা ও এক কেজি খেজুর কিনতে পারবেন। প্রতিদিন প্রতি ট্রাকে বিক্রির জন্য ৩০০-৪০০ কেজি চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, ছোলা এবং ৩০-৫০ কেজি খেজুর বরাদ্দ থাকবে।
রাজধানীর যে ৩২টি স্থানে ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে সে স্থানগুলো হচ্ছে- সচিবালয়ের গেট, জাতীয় প্রেসক্লাব, কাপ্তান বাজার, ভিক্টোরিয়া পার্ক, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, নিউমার্কেট অথবা নীলক্ষেত মোড়, শ্যামলী অথবা কল্যাণপুর, জিগাতলা মোড়, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, উত্তরা, মিরপুর-১ নম্বর মাজার রোড, শান্তিনগর বাজার, মালিবাগ বাজার, বাসাবো বাজার, আইডিয়াল স্কুল বনশ্রী, বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর, মহাখালি কাঁচাবাজার, শ্যাওড়াপাড়া বাজার, দৈনিক বাংলা মোড়, শাজাহানপুর বাজার, ফকিরাপুল বাজার ও আইডিয়াল জোন, মতিঝিল বক চত্বর, খিলগাঁও তালতলা বাজার, রামপুরা বাজার, মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর, আশকোনা হাজি ক্যাম্প, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার, দিলকুশা, মাদারট্যাক নন্দিপারা কৃষি ব্যাংকের সামনে ও পলাশী মোড়।
এছাড়া, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার ১৮৪টি স্থানে এবং টিসিবির নিজস্ব ১০টি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৭৮৪ জন পরিবেশকের কাছ থেকেও ভোক্তারা পণ্য কিনতে পারবেন।








