স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যমের জন্য নতুন কোনও নীতিমালা করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তবে ভোটের দিন সংবাদ সংগ্রহ, সরাসরি সম্প্রচার ও ভোটকেন্দ্রে ইসির দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ মে) সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সংগে মতবিনিময় সভায় ইসি সচিব একথা বলেন।
বিভিন্ন নির্বাচনে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ, প্রচার, প্রতিবেদন প্রকাশ এবং ভোট গ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহ, প্রকাশ ও প্রচার বিষয়ক একটি নীতিমালা প্রণয়ন শীর্ষক এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত সভা হয়।
কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়, প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না। সাংবাদিকরা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। কোনও প্রকার নির্বাচনি উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ করা থেকে বিরত থাকবেন। সাংবাদিকরা কোনও প্রার্থী বা কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে যে কোনও ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তার জন্যে সংবিধান, নির্বাচনি আইন ও বিধিবিধান মেনে চলবেন।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় নতুন কিছু প্রস্তাব সংযোজন করা হয়। তাতে বলা হয়, ভোটদানের ছবি তোলা যাবে না। ভিডিও করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কর্মরতদের সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না। পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না। ভোটকক্ষের ভেতর থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। ভোট গণনার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না এবং একইসঙ্গে একাধিক সাংবাদিক একই কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না।
গণমাধ্যম কর্মীরা আলোচনায় অংশ নিয়ে ইসির উদ্যোগের সমালোচনা করে জানান, ভোটকে সামনে রেখে আকস্মিকভাবে নীতিমালা প্রণয়নের তৎপরতায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হতে পারে। গণমাধ্যমকর্মীরা ভোটকেন্দ্রে বেশ সচেতনভাবেই কাজ করছেন। বিদ্যমান আইন-বিধির যথাযথ প্রয়োগ হলে নীতিমালার প্রয়োজন পড়বে না।
পর্যবেক্ষণ নীতিমালা মেনে ও সাংবাদিকদের দেওয়া ইসির পরিচয়পত্রের মধ্যে থাকা নির্দেশনা অনুসরণ করেই কাজ করছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা না করে অবাধ, সুষ্ঠু ভোট আয়োজন করার বিষয়ে কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগের পরামর্শ দেন তারা।
পরে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘গণমাধ্যম আমাদের সহায়ক শক্তি। নতুন কোনও বিধি-নিষেধ আরোপের উদ্দেশ্য আমাদের নেই। গণমাধ্যমের জন্য প্রস্তাবিত নীতিমালা করা হচ্ছে না। আমরা চাই, ভোটের সংবাদ আরও কিভাবে সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে প্রচার করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনভাবে গণমাধ্যমকর্মীরা নিজেদের নীতিমালা মেনে কাজ করেন। তাদের সঙ্গে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে নজর রাখা হবে। যে কোনও অনিয়মের বিষয়ে কমিশন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’
গণমাধ্যমের প্রশংসা করে তিনি জানান, ভোটের দিন অনিয়মের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন দেখেই ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় সেল থাকে। সেক্ষেত্রে ফল প্রচার ও সুব্যবস্থাপনায় একযোগে কিভাবে কাজ করা যায়, তাও দেখা হবে।
এসময় ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান, যুগ্মসচিব মিজানুর রহমান খন্দকার, এস এম আসাদুজ্জামান, ফরহার আহাম্মদ খান, উপসচিব ফরহাদ হোসেন ও তথ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন, মোস্তফা ফিরোজ, জ ই মামুন, আশিস সৈকত, জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল, সৈয়দ আশিক রহমান, মনজুরুল হক, মঈনুল হক চৌধুরী, কাজী জেবেল, সাইদুর রহমান, একরামুল হক সায়েম, আরাফাত সিদ্দিকী, রাসেল আহমেদ, মুকিমুল আহসান হিমেল, তানিয়া আহমেদ, আসমা মিতা, হুমায়ুন কবীর, বেলায়েত হোসেন, আহমদ ফয়েজ, সিরাজুজ্জামান হেলালসহ প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
গাজীপুর সিটি নির্বাচন: স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে ইসি








