চরাঞ্চলের মানুষদের উন্নয়নের স্রোতধারায় যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের বড় একটি অংশ দরিদ্র। চরাঞ্চলের এসব দরিদ্র মানুষদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় যুক্ত করতে না পারলে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে না। তাই চরাঞ্চলের মানুষদের উন্নয়নের স্রোতধারায় যুক্ত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে ও আরও প্রকল্পের পরিকল্পনা করছে।’
বুধবার (৯ মে) সিরডাপ মিলনায়তনে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিনার ফিউচার প্ল্যানিং অব চর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (সিডিআরসি)' শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা নেই উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সিআরপি, এমফোরসি, একটি বাড়ি একটি খামারের মতো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মঙ্গা দূর করা গেছে। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং বাংলাদেশের সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আলোকে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়িকে একটি খামার হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের উত্তরাঞ্চলের দারিদ্র্য ও অন্যান্য ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে আরডিসিডি, ডিএফআইডি, এইউএসএআইডি-এর সহযোগিতায় সিএলপি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০০৪-২০১৬ মেয়াদে ১০টি জেলার ৩৩টি উপজেলার ১২০টি চর ইউনিয়নে একলাখ ৩০ হাজার পরিবারকে সম্পদ হস্তান্তরের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে আরডিসিডি, এসডিসি ও আরডিএ যৌথভাবে সিএলপি প্রকল্পের সম্পদ হস্তান্তরের কার্যক্রমের ফলাফলের ভিত্তিতে এমফোরসি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু করে, যা চরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণ, গুণগত কৃষি পণ্যের ব্যবহার ও মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এমফোরসি প্রকল্পের আওতাধীন চরাঞ্চলের টেকসই বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ১০টি জেলায় ৯০ হাজার দারিদ্র্য পরিবারের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।’
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনে হোলেনস্টিন, সিরডাপের মহাপরিচালক টেভিটা জি বসেওয়াকা টাগিনাভুলাও, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বগুড়ার মহাপরিচালক এম এ মতিন, সুইসকান্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনির্বান ভৌমিক, সিডিআরসি'র পরিচালক ড. মো. আব্দুর রশিদসহ প্রমুখ।








