মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামির সঙ্গে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের গোপন আঁতাতের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করবে আইন মন্ত্রণালয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের অভিযোগ কে তদন্ত করবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আইনমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার (১০ মে) সকালে জেনেভা গেছেন। তিনি দেশে ফিরবেন ২০ মে সকালে।
এর আগে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এক আসামির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ গোপনে বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বুধবার (৯ মে) দুপুরে প্রসিকিউশন থেকে আইন মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়। ‘ইতোমধ্যে ওয়াহিদুল হকের মামলা থেকে তুরিন আফরোজকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অপর প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম। গত ৮ মে তাকে প্রসিকিউশনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটরের এ সংশ্লিষ্ট দুটি চিঠি তুরিন আফরোজের সঙ্গে আসামির কথোপকথনের (গত ১৮ ও ১৯ নভেম্বরের) সিডিসহ নথি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠনো হয়েছে। এখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মালিক আইন মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে গত ২৪ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠান।
প্রসিকিউশনের সূত্রে থেকে জানা গেছে, গত ১১ নভেম্বর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ ওই আসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ রয়েছে জানিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। এছাড়া, এ বিষয়ে ওয়াহিদুল হকের কাছে প্রসিকিউটর তুরিন মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। পরে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার নজরে এলে প্রসিকিউটর তুরিনকে এ মামলা থেকে প্রাথমিকভাবে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। পাশাপাশি এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত চলা অবস্থায় তার হাতে থাকা ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য মামলা থেকেও তুরিনকে অব্যাহতি দেন চিফ প্রসিকিউটর। বুধবার (৯ মে) তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।








