ঈদে টিকিট কালোবাজারিদের প্রতিরোধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। বৃহস্পতিবার (২৪ মে) রেলভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। এসময় যাত্রীদের সুবিধার্থে ঈদের আগে ও পরে সাত জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলার ঘোষণাও দেন তিনি।
রেলমন্ত্রী বলেন, ‘টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধে সব বড় বড় স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ এবং র্যাব এর সহযোগিতায় টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করা হবে। তাছাড়া জেলা প্রশাসকদের সহায়তায় ভ্রাম্যমাল আদালতও পরিচালনা করা হবে। ট্রেনে যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে সে জন্য ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান রেলমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘রেলে যে যাত্রী আসা যাওয়া করে তার বেশি যাত্রী আসা যাওয়ার সুযোগ করে দেবো। প্রতিদিন দুই লাখ ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করে। ঈদ উপলক্ষে দুই লাখ ৭৫ হাজারের ওপর যাত্রী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিন লাখও যেতে পারে বলেও জানান মন্ত্রী।
টিকিট ছাড়া যাত্রীদের বিষয়ে করণীয় জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘রেলে আসা যাওয়া মানুষ বেশি পছন্দ করে। যাত্রীরা নিজে স্বেচ্ছায় ছাদে ওঠে। ছাদে ওঠা আমরা কোনও অবস্থাতেই মেনে নেই না। কর্তব্যরতদের বলেছি ছাদে যারা উঠবে তাদের নামিয়ে দিয়ে ভেতরে বসে আসা যাওয়ার জন্য। বেআইনি কাজ আমরা মেনে নিতে পারি না। আমাদের দায়িত্ব হলো, ভদ্রভাবে তাদের নিবৃত্ত করা।
ঈদের সময় টিকিটের কৃত্রিম সংকট হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘রেলের সঙ্গে যুক্ত সব কর্মকর্তা কর্মচারীর ছুটি (শুক্রবারসহ) বাতিল করা হয়েছে। নাশকতা নৈরাজ্য আমরা কামনা করি না। যেখানে নাশকতা, যেখানে দুর্নীতি সেখানে আমাদের বাহিনী প্রস্তুত আছে। এর বাইরে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার মোতায়েন থাকবে।’
রেলমন্ত্রী জানান, একজন যাত্রীকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট দেওয়া যাবে । ঢাকা স্টেশনে ২৬টি কাউন্টার খোলা রাখা হবে। ঈদ উপলক্ষে সর্বমোট ১ হাজার ৪০৫টি কোচ (বিদ্যমান-১২২১+সপ আউট-টার্ন-১৮৪) চলাচল করবে। সর্বমোট ২২৯টি লোকোমোটিভ ব্যবহার করা হবে। যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ঈদের তিন দিন আগে থেকে কনটেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া কোনও মাল ট্রেন চলাচল করবে না। ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ জুন মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচল করবে না।
এসময় তিনি ঈদের আগে ও পরে সাত জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে বলেও ঘোষণা দেন। এগুলো হচ্ছে, দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল- ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা ঈদের আগে ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন (তিনদিন)। ঈদের পর ১৮ থেকে ২৪ জুন। চাঁদপুর স্পেশাল-১ – চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম, ঈদের আগে ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন। ঈদের পর ঈদের পর ১৮ থেকে ২৪ জুন। চাঁদপুর স্পেশাল-২- চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম, ঈদের আগে ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন। ঈদের পর ঈদের পর ১৮ থেকে ২৪ জুন। রাজশাহী স্পেশাল- রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী- ঢাকা ঈদের আগে ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন (তিনদিন)। ঈদের পর ১৮ থেকে ২৪ জুন। পার্বতীপুর স্পেশাল- পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর- ঢাকা ঈদের আগে ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন (তিনদিন)। ঈদের পর ১৮ থেকে ২৪ জুন। শোলাকিয়া স্পেশাল-১, ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার, ঈদের দিন। শোলাকিয়া স্পেশাল-২, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ, ঈদের দিন।
এ সংবাদ সম্মেলনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








