গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে নারীদের পাঠানোর চেয়ে দেশেই তাদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা সম্ভব বলে মনে করেন লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের সুযোগ আছে, আমরা সম্মানের সঙ্গে তাদের চাকরিতে নেবো। আমাদের দেশের নারীরা গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব যাবে না। আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরি দেবো।’
সোমবার (১১ জুন) সকালে মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে বিদেশ ফেরত ২২ জন নারীকে আর্থিক সহায়তা এবং ৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে চাকরির নিশ্চয়তা সংক্রান্ত এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের একটা সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়ে গেছে, আমরা তা অস্বীকার করতে পারবো না। পত্রপত্রিকায় এই নারীদের দুঃখগাথা পড়ে একটা প্রশ্নই মাথায় আসে। তা হলো মানুষ কীভাবে এতো দানব হতে পারে। এই দুঃখ করে এখন কি হবে? এখন আর শোক করে লাভ নেই, কিছু একটা করতে হবে। আমাদের দেশে ৫ কোটির মতো শ্রমিক রয়েছে। এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ সবার সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে। আমি তাদেরও আহ্বান জানাবো। আমাদের উদ্যোগ দেখে সরকার বলবে—তারা করে দেখিয়েছে, আমরা কেন পারবো না? আমাদের অনুরোধ, গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে নারীদের পাঠাবেন না।’
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের হেড শরিফুল হাসান বলেন, ‘এয়ারপোর্টে মধ্যরাতে ফিরে আসে আমাদের এই মেয়েরা। তাদের যাওয়ার কোনও জায়গা থাকে না। দুঃসহ অবস্থার এমন বর্ণনা তারা দেয় যে— আপনারা রাতে ঘুমাতে পারবেন না। আমি আমার বাসার মেয়েটাকে সৌদি আরব পাঠাবো না, তাহলে এদের কেন পাঠাচ্ছি? আমাদের মন্ত্রী সচিবরা কেন সৌদি আরবের সুরে কথা বলে? কিছু করতে না পারুক অন্তত এই মেয়েগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে বলতে তো পারে আমরা দুঃখিত। আমাদের মেয়েদের আমরা গৃহকর্মী হিসেবে পাঠাবো কিনা তার সিদ্ধান্ত আপনাদের।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে সঙ্গে মানবপাচার আমাদের সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের দেশের মেগা প্রজেক্ট পদ্মা ব্রিজ কাদের টাকায় হচ্ছে? আমাদের এই শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্সের টাকায়। আমরা বছরে ১৪-১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাই। এতগুলো মানুষ ফিরে আসে কত টাকা সঙ্গে নিয়ে? যেই টাকা পায়, সেই টাকায় চাকরি তো আমরা এখানেই দিতে পারি। এসব বিষয় সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। শুধু নারীদের না, পুরুষ শ্রমিকদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাঠাতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সৌদি ফেরত ২২ জন নারীকে ১ লাখ টাকা করে এককালীন অনুদান দেওয়া হয়। ৫০ জন নারী শ্রমিককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাকরির নিশ্চয়তার লক্ষ্যে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে ব্র্যাক এবং লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।








