দূর থেকে শোনা যাচ্ছে ট্রেনের হুইসেল, ট্রেন চলে গেলে ঈদে আর বাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে না। তাই টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে দৌড় দিলেন এক যাত্রী। পেছন থেকে তাকে অনুসরণ করে দেখা গেল, ট্রেনের দরজায় লাফ দিয়ে উঠে কোনও রকম ঝুলে আছেন। ভেতর থেকে একজন পেছন দিয়ে তাকে ধরে রেখেছে। এভাবেই যাত্রা শুরু বাড়ির উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে বলে গেলেন, ‘জায়গা নাই, তবুও যেতে হবে’। শুধু বগিতেই নয়, জায়গা নীলসাগর এক্সপ্রেসের ছাদেও নেই।
শুক্রবার দুপুরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এমনটাই দেখা যায়। স্টেশনের প্লাটফর্মে অপেক্ষা করছেন শত শত যাত্রী। সবাই ঈদের খুশি ভাগাভাগি করতে বাড়ি যাচ্ছেন। স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষা কোনোভাবেই বাড়ি ফেরার তাড়াকে ম্লান করে দিচ্ছে না। এমন এক যাত্রী মিজান, তিনি যাবেন যমুনা এক্সপ্রেসে। ট্রেন ছাড়ার সময় ৪.৪০ মিনিটে, কিন্তু দুপুর ১২টা থেকেই প্লাটফর্মে অপেক্ষা করছেন তিনি। বাড়ি ফেরার খুশি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ট্রেনে জায়গা পাওয়া খুব মুশকিল। স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে যাচ্ছি তো তাই জায়গা পাওয়ার জন্য আগে এসে অপেক্ষা করা।
মিজানের মতো প্রচুর যাত্রী অপেক্ষা করছেন স্টেশনে। বগিতে জায়গা না হলে, উঠে যাবেন ট্রেনের ছাদে। কতটা ঝুঁকি ছাদে বসে যাওয়া তাও তারা জানেন। কিন্তু বাড়ি যেতেই হবে। কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টারের দেওয়া তথ্যমতে, সারাদিনে মোট ৫৯টি ট্রেন কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ট্রেন ৬৪টি,আর স্পেশাল ট্রেন চলাচল করছে ৫টি। যাত্রীদের চাপে এসব ট্রেনের অনেকগুলোই ২০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করছে। তবে নীলসাগর সকাল ৮টায় কমলাপুর ছাড়ার কথা থাকলেও তা স্টেশন ছেড়ে গেছে দুপুর দেড়টার পর।
ট্রেনের পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ট্রেনের ছাদে যাত্রী ঈদের সময় হবেই। মানা করলেও শোনে না। তাদেরও তাই কিছু করার থাকে না। ট্রেন দেরিতে ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘বেশিরভাগ ট্রেনেই যাত্রীর চাপ রয়েছে। তাদের ওঠানামার প্রয়োজনে ২০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত লেট (দেরি) হচ্ছে। তাছাড়া ছাদে চলাচলের ক্ষেত্রে কেউ কথা মানছেন না। ঈদের সময় তারা বাড়ি যাচ্ছেন,জোর করে তো আর নামিয়ে দিতে পারি না।’








