অর্থবিল পাস

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ জুন ২০১৮, ২২:৪৩আপডেট : ২৭ জুন ২০১৮, ২৩:০৬

সংসদে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনী এনে বুধবার সংসদে পাস হয়েছে অর্থবিল ২০১৮। সংসদে ও সংসদের বাইরে বাজেটের কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী এসব সংশোধনীর প্রস্তাব আনেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পাস হবে।  

গত ৭ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ও অর্থবিল ২০১৮ উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এরপর বাজেট ও অর্থবিলের ওপরে গত তিন সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলে।  

অর্থবিলে আনা সংশোধনী অনুযায়ী ইন্টারনেট সেবা ও মোবাইল ফোন সংযোজন শিল্পের ওপর ভ্যাট কমবে। এছাড়াও শুল্ক কমবে কম্পিউটার যন্ত্রাংশের আমদানির ওপরে। তবে শুল্ক বাড়বে কম দামি সিগারেটের ওপর।

অর্থবিলের সমাপনী আলোচনায় অর্থমন্ত্রী গুঁড়ো দুধ আমদানিতে শুল্ক হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। একইসঙ্গে ড্রাই মিক্সড ইনগ্রেডিয়েন্টের শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল ন্যাচারাল ব্যারিয়াম সালফেটের শুল্ক হার ১০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। অর্থমন্ত্রী  দেশে উৎপাদিত অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড পণ্যসমূহের ওপর  আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করে ২০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি আরোপের প্রস্তাব করেন।
হেপাটাইটিস-সি রোগের ওষুধ পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে শূন্য শুল্ক হার, সিমকার্ড বা স্মার্ট কার্ডের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হার হ্রাস করে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। ওষুধ শিল্পের  মোড়ক উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হার কমিয়ে ৫ শতাংশ, লিফ স্প্রিং আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ, সাড়ে ৭শ’ ওয়াট ক্ষমতার মোটর তৈরি উৎসাহিত করতে আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট আরোপ করার প্রস্তাব করেন। টেলিভিশনের ওপেন সেল আমদানিতে পৃথক এইচএস কোড সৃষ্টি করে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমানে ২০০০ সিসি হতে ৩০০০ সিসি পর্যন্ত ডাবল কেবিন পিকআপ আমদানিতে ২৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি বিদ্যমান রয়েছে। আমদানি উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ডাবল কেবিন পিকআপ এর ওপর বিদ্যমান রেগুলেটরি ডিউটি ২৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়।
জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং ধূমপায়ীর সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি দশ শলাকার মূল্য ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা এবং অতি উচ্চস্তরের সিগারেটের প্রতি দশ শলাকার মূল্য ১০১ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। উল্লেখ্য, এ বাজেটেই সিগারেটের অন্যান্য স্তরে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বর্তমানে শুল্ক-করসহ মূল্যের পূর্বের অভিঘাত অপরিবর্তিত রেখে  প্রতি গ্রাম জর্দার ট্যারিফ মূল্য ১.২০ টাকা এবং প্রতি গ্রাম গুলের ট্যারিফ মূল্য ০.৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণসহ দেশের সব মানুষ শীতের সময় ত্বকের পরিচর্যায় পেট্রোলিয়াম জেলির ওপর নির্ভরশীল থাকায় এই পণ্যটির সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে বিদ্যুৎসেবাকে সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে অর্থবছরে ফিলামেন্ট বাল্বের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়।

মোটরসাইকেল শিল্পের অধিকতর বিকাশের লক্ষ্যে দেশীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রেখে সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ৭ শতাংশের অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি এর বিপরীতে প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে নীট ৭ শতাংশ করা হয়।

বর্তমান অর্থবছরের বাজেটে শুধুমাত্র ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে এয়ার লাইন্সগুলোর বন্দর সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। আগে এ সেবার বিপরীতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এ সেবার ওপরে ভ্যাট প্রযোজ্য। ফলে, এ সেবার ওপর ৭ জুন, ২০১৮ তারিখে প্রদত্ত ভ্যাট অব্যাহতি ওই তারিখ হতে প্রত্যাহার করা হয়।  

বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের কোনও বিষয় নিয়ে তেমন কোনও সমালোচনা হয়নি। এ বাজেটকে সর্বস্তরের মানুষ গ্রহণ করেছে। এছাড়া পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এজন্য স্টক মার্কেটের উন্নয়নে নেওয়া কিছু পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে এ বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে,অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংসদে ও সংসদের বাইরে অর্থনীতিবিদরাসহ বিভিন্ন সংগঠন ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা করেছেন। এতে এ কথা বলা যায় বাজেটের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমাগত বাড়ছে।

এর আগে সংসদে বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, দেশে কাঙ্ক্ষিত হারে বিনিয়োগ হচ্ছে না। কর্মসংস্থানেও ধীরগতি। এদিকে নজর দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ ও বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দেন রওশন এরশাদ। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি কেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চান? আমরা তো আপনাকে হারাতে চাই না। সংসদে টানা ১০ বার বাজেট দেওয়ায় অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে আবারও অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে আবুল মাল আবদুল মুহিতকে আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল বাজেটের ওপর আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য বেগন শিরিন নাঈম, বেগম আমাতুল কিবরিয়া কেয়া, মোহামম্মদ আমাউল্লাহ, মো.ছলিম উদ্দীন তরফদার, নুরুল মজিদ হুমায়ুন, ইকবালুর রহিম, জয়া সেনগুপ্ত, হোসনে আরা লুতফা, মো.মুজিবুল হক ও আ স ম ফিরোজ।

এছাড়া অর্থ বিল-২০১৮ এ আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর সংশোধনীতে ১৬৬ এ নতুন ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি আয়কর রিটার্নে ভুল তথ্য দিলে তাকে তিন বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

 

/এসআই/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম