সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, সম্পদের সদ্ব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য পঞ্চমবারের মতো মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) করতে যাচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ৫১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে এপিএ চুক্তি হবে। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন।
মঙ্গলবার (৩ জুলাই) সচিবালয়ে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম এ তথ্য জানান।
এপর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো চুক্তি অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জন করতে পেরেছে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদক চুক্তি বাস্তবায়নে প্রাপ্ত গড় নম্বর ৯১ দশমিক ৪০ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, ৪৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ৮০-এর ওপরে নম্বর পেয়েছে। ৮০-এর নিচে নম্বর পেয়েছে দু’টি মন্ত্রণালয়। সদ্য সমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ফলাফল পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে সিনিয়র সচিব ও সচিবরা সই করবেন। সিনিয়র সচিব ও সচিবরা চুক্তি সইয়ের পর তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করবেন।
সচিব আরও জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ- আইএমইডি (প্রাপ্ত নম্বর ৯৯ শতাংশ), মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় (প্রাপ্ত নম্বর ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ) ও কৃষি মন্ত্রণালয় (প্রাপ্ত নম্বর ৯৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ)। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়ন সফলতার জন্য তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রধানমন্ত্রী সার্টিফিকেট দিয়ে সম্মানিত করবেন। চলতি অর্থবছরেও রূপকল্প ২০২১, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি), সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প, পিপিপির আওতায় গ্রহণ করা প্রকল্প, সরকারের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের আওতাধীন অধিদফতর বা সংস্থা এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলো চুক্তি সম্পাদন করবে বলে জানান জিয়াউল আলম।
২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এপিএ চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে অধীনস্ত দফতর, সংস্থার কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতর, সংস্থা ছাড়াও বিভাগীয়, আঞ্চলিক এবং জেলা পর্যায়ের দফতরকে এপিএ চুক্তির আওতায় আনা হয়। তিনি বলেন, আগামী একবছর মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো কী কাজ করবে, সেই কাজের একটি অঙ্গীকারনামাকে আমরা এপিএ বা বার্ষিক কর্ম সম্পাদক চুক্তি বলি, সেই অঙ্গীকারনামাটি আগামীকাল (বুধবার) স্বাক্ষরিত হবে।








