মিয়ানমারের অপপ্রচার ঠেকাতে বাংলাদেশকে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

শেখ শাহরিয়ার জামান
০৬ জুলাই ২০১৮, ১৫:৩৩আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৮, ০৯:৩৫

টেকনাফের হারিয়াখালী এলাকা থেকে তোলা (ছবি: বাংলা ট্রিবিউন) মিয়ানমারের অপপ্রচার ঠেকানো ও সারাবিশ্বকে সঠিক তথ্য জানানোর জন্য বাংলাদেশের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মন্তব্য, এর ফলে যেমন মিয়ানমারের মিথ্যা প্রচারণা কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না, তেমনই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপকার হবে।

চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফায়েজ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘মিয়ানমারের অপপ্রচার ঠেকাতে আমাদের একটি প্ল্যাটফর্ম থাকা উচিত। কেউ মিথ্যার আশ্রয় নিলে আমরা তা বন্ধ করতে পারবো না। কিন্তু সেটাকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে আমাদের।’

সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের পরামর্শ, এটি সরকারিভাবে হতে পারে, আবার বেসরকারি খাতেও তা থাকতে পারে। তবে তার ভাষ্য, ‘সরকার সবক্ষেত্রে অনেক কিছু বলতে পারে না। তাই বেসরকারিভাবেও বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে। প্রতিটি অপপ্রচার ধরে ধরে এর তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে জবাব দেবে এই প্ল্যাটফর্ম।’

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অফিসের ওয়েবসাইটে গত ২০ জুন একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, ‘স্টেট কাউন্সিলর বলেছেন, বাইরের দেশ থেকে আসা ঘৃণামূলক বক্তব্যগুলো দুই সম্প্রদায়কে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।’ বাইরের দেশ বলতে তিনি বাংলাদেশকেই বুঝিয়েছেন।

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফায়েজ আহমেদের কথায়, ‘আমরা সবসময় তাদেরকে ঘৃণামূলক বক্তব্য পরিহার করে সৌহার্দ্যপূর্ণ জীবনের কথা বলেছি। কিন্তু এখন তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, আমরা ঘৃণামূলক বক্তব্যকে উসকে দিচ্ছি। ১৯৬২ সালে যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল তারা, তখন তো বাইরের দেশ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসেনি। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গার ঢল নামার সময়ও তো বাইরের দেশ ঘৃণামূলক বক্তব্য দেয়নি। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ কোনও ধরনের ঘৃণার বক্তব্য না দিলেও রোহিঙ্গাদের ঠিকই বিতাড়ন করা হয়েছিল।’

মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মোহাম্মাদ শহীদুল হক বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মিয়ানমারের অপপ্রচার চালানোর দক্ষতা গোয়েবলসকেও হার মানায়।’

উদাহারণ হিসেবে এই সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে জানালেন, ২০১২ সালে রাখাইনে একটি দাঙ্গা সংঘটিত হয়। তখন প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়— একজন রোহিঙ্গা বালতিতে করে একটি জ্বলন্ত বাড়িতে তরল পদার্থ ছুড়ে দিচ্ছে। মিয়ানমারের প্রধান সংবাদপত্রগুলো এর ক্যাপশন করেছিল, ‘একজন রোহিঙ্গা তার বাড়ি পোড়ানোর জন্য বালতিতে করে কেরোসিন ছুড়ে দিচ্ছে।’

বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মোহাম্মাদ শহীদুল হক বলেন, ‘আমরা পরে জানতে পেরেছি, ওই রোহিঙ্গা আগুন নেভাতে পানি ছুড়ে মারছিল। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ছবিটি মিয়ানমারের জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল। পৃথিবীর মানুষ এখন মিয়ানমারের অপপ্রচার আর বিশ্বাস করে না। ফেসবুক সম্প্রতি একটি পদক্ষেপ নিয়েছে, এর মাধ্যমে মিয়ানমারে যারা ঘৃণামূলক বক্তব্য দেয় তাদেরকে ব্লক করা হচ্ছে।’

 

/জেএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম