বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশের ওপর জোর দিচ্ছে চীন

সঞ্চিতা সীতু, চীন থেকে ফিরে
১৩ জুলাই ২০১৮, ১৫:২১আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ২১:০০

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশের ওপর জোর দিচ্ছে চীন পরিবেশ দূষণ না করেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চলছে চীনে। চীনের বেইজিং থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে ডাটাং ওভারসিজ অ্যান্ড ইলেক্ট্রিক টেকনোলজির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে ছাই নেই, ধোঁয়া  নেই, নেই কোনও কয়লার চিহ্নও। এমনকি সামান্য শব্দও বাইরে থেকে শোনা যায় না। একই মডেল অনুসরণ করা হবে বাংলাদেশের কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রায়ও। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০১৯ সালে উৎপাদনে আসবে।

সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি’র আমন্ত্রণে চীন সফরে যান দেশের প্রধান সারির সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা। গত ৪ থেকে ৮ জুলাইয়ের সফরের সময়  চীনের বেইজিং থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ডাটাং ওভারসিসের বিদ্যুৎকেন্দ্রে গিয়ে পরিবেশ দূষণের কোনও চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি।   বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশের ওপর জোর দিচ্ছে চীন

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৩০০ মেগাওয়াট করে মোট ৬০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট পরিচালনা করছে ডাটাং। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে যাওয়ার সময় সারা রাস্তায় চোখে পড়েছে সারি সারি সবুজ গাছ। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরেও সবুজের ছড়াছড়ি। একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে ডাটাংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডাইং ইয়াং বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেই পরিবেশকে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ঠিক রেখেই কাজ করা হয় এখানে। কোনও ক্ষেত্রে যেন ব্যত্যয় না ঘটে, সে বিষয়ে সবসময় সরকার নজরদারি করে। আমরা যেমন পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে বাতাসে অ্যাশ ছাড়ি না, ঠিক একইভাবে কার্বন  উচ্চমূল্যে বিক্রি করি। একইভাবে এখানের গরম বাতাস শিল্প কারখানার কাছে বিক্রি করা হয়।’ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশের ওপর জোর দিচ্ছে চীন

ইয়াং বলেন, ‘বাংলাদেশের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবো আমরা। পায়রায়ও সব মানদণ্ড ঠিক রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’ যখন বিশ্বব্যাপী প্রচারণা রয়েছে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে চীন সরে আসছে, তখন ইয়াং বলছেন, প্রচারণাটি ঠিক নয়। তারা নিজেরাও নতুন কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছেন।

সিডিটিও অ্যান্ড এম নামের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ইয়াং চাকি বলেন, ‘৩০ বছর আগে থেকে আমরা নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা করছি। আমাদের প্রযুক্তির বিশেষ দিক হচ্ছে পরিবেশ দূষণ না করা।’ প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন থেকেই বিষয়টির গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশের ওপর জোর দিচ্ছে চীন

সিডিটিও অ্যান্ড এম বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, তাদের কয়লা রাখার স্থানটি স্থায়ীভাবে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাইরে থেকে কয়লা দেখা যায় না। কোনও ছাইও বাইরে থেকে দেখা যায় না। বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে পানি ব্যবহার করে, তাও আবার ঠাণ্ডা করে নদীতে ফেরত পাঠানো হয়। বাইরে থেকে কোনও অ্যাশ দেখা যায় না। কালো ধোঁয়া যেমন নেই, তেমনি কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়েও শব্দ টের পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি পটুয়াখালীর পায়রায় এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এই কেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে চীনের ডাটাং ওভারসিস ইলেক্ট্রিক টেকনোলজি অ্যান্ড ও অ্যান্ড এম কোম্পানি লিমিটেড। ডাটাং কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক সব মান বজায় রেখে যেমন তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে, একইভাবে চলবে পায়রার বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশের ওপর জোর দিচ্ছে চীন

বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম বলেন, ‘পায়রায়ও কয়লা রাখা হবে বড় আকৃতির পুকুরের মধ্যে। যার ওপরে থাকবে ঢাকনা। ফলে বাতাসে কয়লা থেকে কোনও ধুলা ছড়াবে না। একইভাবে পায়রায় এফজিডি (ফ্লু-গ্যাস ডিসালফারাইজার্স) অথবা সালফার অক্সাইডের নিঃসরণ কমানোর জন্য এফজিডি ব্যবহার করা হবে। সালফার অক্সাইডও বায়ুদূষণ করে। কয়লা পোড়ানোর সময় এটি নির্গত হয়। এর ফলে অ্যাসিড বৃষ্টি হয়। মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এটি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হবে না।’ তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে সর্বশেষ প্রযুক্তি আল্ট্রাসুপার ক্রিটিকাল ব্যবহৃত হবে। এতে কয়লার ব্যবহার কম হবে। বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। তবে পরিবেশ দূষণ হবে না।’

প্রসঙ্গত, আগামী (২০১৯) বছরের মাঝামাঝি সময়ে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথম ইউনিট ও বছরের শেষের দিকে দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিক। কেন্দ্রটি নির্মাণে রাষ্ট্রীয় নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ও চীনের সিএমসি মিলে এই যৌথ মূলধনী কোম্পানিটি গঠন করেছে।

আরও পড়ুন- আড়াই বছরেও মুন্সীগঞ্জের দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরু হয়নি


/এমএনএইচ/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
জ্বালানি চাহিদা পূরণে পাঁচ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন
দাম বাড়ানোর পরও বিদ্যুতে ভর্তুকি প্রয়োজন: বিইআরসি
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম