জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে শনিবার সারাদেশে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। শিশুর দেহের স্বাভাবিক বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর লক্ষে দেশের দুই কোটি ১৯ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার। প্রথম রাউন্ডে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর
পাবনা: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বেলুন উড়িয়ে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০১৮ এর প্রথম রাউন্ড উদ্বোধন করেন। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মাঠে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খানের সভাপতিত্ব আলোচনা সভায় তিনি বক্তব্য দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সামসুল হক টুকু, পাবনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল, রাজশাহী স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আনিসুর রহমান ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. তাহাজ্জেল হোসেন প্রমুখ।
গোপালগঞ্জ: ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন সিভিল সার্জন ডা. তরুণ মণ্ডল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাক হাসান কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রথম রাউন্ডে জেলার দুই লাখেরও বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। জেলার মোট ১ হাজার ৭৬০টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৫২০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। এছাড়া বাসষ্ট্যান্ড, নদী পারাপারের ঘাট ও রেলস্টেশনে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
হিলি: হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাজেদুর রহমান। এ সময় সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান আলী সরকার, সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। উপজেলার ৯৬টি ক্যাম্পে ১৯২ জন কর্মী এবং ১২ জুন ফিল্ড সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন ক্যাম্পেইন কার্যক্রমে। উপজেলার তিন হাজার ৪০৯ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
ঝিনাইদহ: ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা. রাশেদা সলতানা, পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু উপস্থিত ছিলেন। জেলার ৬ থেকে ১১ মাস বয়সের ২৮ হাজার ৩ শ’ ৫০ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সের ২ লাখ ৩৩ হাজার শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
লক্ষ্মীপুর: সদর হাসপাতাল চত্বরে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ আহমদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী প্রমুখ। জেলার ৪টি পৌরসভাসহ মোট ৫৮টি ইউনিয়নে এ কাজে ৩ হাজার ৭৩৫ জন কর্মী ও ১৮৩ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছে। ১ হাজার ৫১২টি অস্থায়ী ও ৫টি স্থায়ী কেন্দ্রে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
নীলফামারী: সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে ক্যাম্পেইনের উদ্ধোধন করেন অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শাহীনুর আলম। নীলফামারী পৌরসভা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভূইয়া, পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহম্মেদ, জেলা পরিবার পরিকল্পনা দফতরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আফরোজা বেগম, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা, আবু জাফর, কামরুল ইমান, উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক আল-আমিন রহমান প্রমুখ। ২৯ হাজার ৫৯ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৬ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এজন্য জেলার ৬১টি ইউনিয়নের এক হাজার ৬৬০টি কেন্দ্রে তিন হাজার দুইশ’ ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।
নোয়াখালী: নোয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব আলম তালুকদার। এ সময় সিভিল সার্জন ডা. বিধান চন্দ্র সেনগুপ্ত, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক একেএম জহিরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম সরদার উপস্থিত ছিলেন। জেলার ৫ লাখ ২২ হাজার ৯১৬ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়া দুর্গম চর, দ্বীপ এবং পাশের জেলা ও উপজেলার সঙ্গে সীমানা নিয়ে বিরোধপূর্ণ এলাাকার শিশুরা যাতে যাতে বাদ না পড়ে সেদিকেও নজর দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
পঞ্চগড়: জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম পঞ্চগড় পৌরসভা মিলনায়তনে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। এ সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার সাদাত, পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র মো. তৌহিদুল ইসলাম, পঞ্চগড় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজা বেগম রীনা উপস্থিত ছিলেন। জেলার ১ লাখ ৫০ হাজার ৬ শ’ ৫২ জন শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।








