সারা দিন স্থবির হয়ে থাকার পর বুধবার (১ আগস্ট) বিকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচির ইতি টেনেছে। এরপরই রাজধানীতে রিকশা ও মোটরযানের চলাচল ফিরে পায় চেনা চিত্র।
বাংলা ট্রিবিউনের স্টাফ রিপোর্টার সাদ্দিফ অভি জানান, শাহবাগে বৃষ্টি নামার পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা চলে যায়। এরপর স্বাভাবিক হয় সেখানকার যানচলাচল। এর আগে দিনভর বিভিন্ন দাবি নিয়ে অবস্থান করেছে তারা। এছাড়া শিশুপার্কের উল্টো দিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স না পাওয়া গাড়িগুলো ঘুরিয়ে দিয়েছে এই কিশোর-কিশোরীরা।
বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার নুরুজ্জামান লাবু জানান, বাংলামোটরে বিকাল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা সরে যাওয়ার পর গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সেখানে সকাল ১০টা থেকে তারা অবস্থান নেয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা মেয়াদ নেই এমন মোটরযানগুলো ধরে পুলিশে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বাংলা ট্রিবিউনের স্টাফ রিপোর্টার শেখ জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিমানবন্দর থেকে বনানী সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সামনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে আবারও অবরোধ হবে। তাদের দেওয়া সাত দফা দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে, রাজপথ ছাড়া হবে না।
বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার আমানুর রহমান রনি জানান, যাত্রাবাড়ীতে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এর আগে সেখানে যথাযথ কাগজপত্রবিহীন গাড়ি আটকে পুলিশকে দিয়ে মামলা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বাংলা ট্রিবিউনের স্টাফ রিপোর্টার রশীদ আল রুহানি ও স্টাফ রিপোর্টার রাফসান জানি জানান, বুধবার বিকাল ৪টায় সায়েন্স ল্যাবরেটরি ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখানে যানচলাচল শুরু হয়। তারা নিজেরাই ব্যারিকেড নিরাপদে সরিয়ে দিয়ে গেছে।
বুধবার সকাল থেকে উত্তরা, মিরপুর, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, শনির আখড়া, মাতুয়াইল, মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরাসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যানচলাচল ছিল খুবই কম। রাস্তায় গাড়ি কম থাকায় সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে গেছে। তবে এ নিয়ে বিরক্তি দেখায়নি কেউ।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে যৌক্তিক মনে করছেন সাধারণ মানুষ। এরমধ্যে রয়েছে দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় ‘হত্যার’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি।
গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।








