শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এবার অভিভাবকরাও রাস্তায় নেমেছেন। হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা পোস্টার নিয়ে তারা রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার রাস্তায় কয়েকজন মাকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা যায়। একজনের হাতে থাকা পোস্টারে লেখা রয়েছে, 'উই আর উইথ ইউ, টিচার্স ফর স্টুডেন্টস, চিলড্রেন্স ফর স্টুডেন্টস।' আরেকজনের পোস্টারে লেখা, 'আই এম এ মাদার, আই ওয়ান্ট জাস্টিস।' আরেক মায়ের হাতে থাকা পোস্টারে লেখা রয়েছে, 'সাপোর্টিং দ্য ইয়ুথ ইন বিল্ডিং এ সেভ নেশন। উই আর দ্য ৯৯%, বেটার ট্যুমরো।'
নিরাপদ সড়ক ও দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় ‘হত্যার’ বিচারসহ নয় দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) পঞ্চম দিনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার পর থেকেই তারা রাস্তায় নামতে থাকে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই অভিভাবকদের দেখা যায়।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে ভর্তি করা হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। গত চার দিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। বুধবার (১ আগস্ট) বিকালে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই দিন সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাজধানীসহ সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার কথা জানানো হয়।








