‘দেশকে ভালোবাসি। তাই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য আমাদের এই আন্দোলন। যারা দেশকে ভালোবাসে তারা সবাই আমাদের সঙ্গে আছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত পেয়েছি। তাই শহীদদের স্মরণে এবং দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে সবাইকে এক সুতায় বাঁধার জন্য আজ সবাই জাতীয় সংগীত গেয়েছি।’ রাজধানীর উত্তরায় হাউজ বিল্ডিং এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শর্মী জাতীয় সংগীত গাওয়া প্রসঙ্গে অনুভূতির কথা জানালেন।
শনিবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর হাউজ বিল্ডিং মোড়ে সড়ক অবরোধ করার পর শিক্ষার্থীরা সবাই সার্কেল তৈরি করে অবস্থান নেয়। বেলা ১১টায় সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গায়। শর্মী বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দেশে বসবাস করি। কিন্তু স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে চলতে পারছি না। প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ মারা যাচ্ছ। আমাদের ভাই-বোন মারা যাচ্ছে। তাই স্বাধীনতা ও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে আমরা আন্দোলন করছি। আমরা ঘুণে ধরা রাষ্ট্রের মেরামত কাজ করছি।’
শিক্ষার্থী রাহাদ বলেন, ‘স্কুলে যখন পড়েছি, তখন প্রতিদিন জাতীয় সংগীত গাওয়ার পরপরই আমরা ক্লাস শুরু হতো। পড়াশোনা শুরু করেছি। তখনও আমরা সম্মানের সঙ্গে জাতীয় সংগীত গেয়েছি, আজও আমরা তা-ই করেছি। আমরা দেশকে ভালোবাসি, মানুষ যাতে নিরাপদে সড়কে চলাচল করে সেজন্যই আমাদের আন্দোলন। আমরা শৃঙ্খলভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করছি। তাই আজ জাতীয় সংগীতের মাধ্যমেই কর্মসূচি শুরু করেছি।’
মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী তাসনিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টানা ৬ দিন আমরা আন্দোলন করছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা কোনও ভাঙচুর করে না। বিশৃঙ্খলা করছে না, আন্দোলনে যারা বিশৃঙ্খলা করতে চাচ্ছে তারা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী না, তারা বহিরাগত। তারা আমাদের বদনাম করতে, আন্দোলনকে নষ্ট করতে এসব করছে। সরকারকে আমরা বোঝাতে চাই, আমরা আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি।’
শিক্ষার্থীরা বলছে, সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়েছে। তবে তারা এর বাস্তবায়ন চায় না। তারা মুখের কথা বিশ্বাস করে না। আশ্বাস নয়, দাবির বাস্তবায়ন চায় তারা।








