ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চারবেলা ঈদের বিশেষ খাবারের জন্য বরাদ্দ মাত্র ২০০ টাকা। এতেই রোগীদের জন্য ব্যবস্থা করা বিশেষ খাবারের। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে এত অল্প টাকায় বাড়তি আয়োজন করতে অনেকটা হিমসিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। সাধারণ দিনে রোগীপ্রতি বরাদ্দ থাকে ১২৫ টাকা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে রোগীপ্রতি বরাদ্দ ৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করা হয়। ২০১৩ সালে এই বরাদ্দ আরেক দফা বাড়িয়ে করা হয় ১২৫ টাকা। গত পাঁচ বছরে বরাদ্দ আর না বাড়লেও সব সরকারি হাসপাতালে ২৬ মার্চ, ২১ ফেব্রুয়ারি ও ১৬ ডিসেম্বরসহ জাতীয় দিবস এবং ধর্মীয় উৎসবের দিনে খাবারের বরাদ্দ থাকে ২০০ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকার প্রত্যেক রোগীর খাবারের জন্য নির্দিষ্ট টাকা ও একটি সাধারণ মান নির্ধারণ করে দিয়েছে। রোগীর খাবার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। খাবারের জন্য প্রতিটি হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা রয়েছে। দরপত্রের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিদিনের খাবার সংগ্রহ করে। কর্তৃপক্ষ প্রতিদিনের রোগীর সংখ্যা জানালে সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেই অনুযায়ী খাবারের আয়োজন করে। একবছর পর পর নতুন দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে সরবরাহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়।
ঈদের দিন ২০০ টাকায় বিশেষ খাবারের আয়োজনের মধ্যে সকালে রয়েছে পাঁচ টুকরা পাউরুটি, একটি কলা, বিস্কুট, সেমাই, একটি সেদ্ধ ডিম, জেলি ও দুধ। দুপুরের খাবারের তালিকায় আছে পোলাও, মুরগির রোস্ট, মুরগির রেজালা, ডিমের কোর্মা, সালাদ ও কোমল পানীয়। রাতের খাবারে রয়েছে ভাত, মুরগি, সবজি ও ডাল। এছাড়া বিকেলে নাস্তা হিসেবে আছে চা-বিস্কুট।
অন্যান্য সাধারণ দিনে সকালের নাস্তায় সেমাই ছাড়া বাকি সবই থাকে। দুপুরে খাবারে থাকে ভাত, মাছ অথবা মুরগি, সবজি ও ডাল। রাতেও একই খাবার পরিবেশন করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে এই মুহূর্তে রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৪৭ জন। তাদের সবাইকে এই একই খাবার পরিবেশন করা হয়।
ঈদুল আজহায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সেবা দিচ্ছেন ৩৬১ জন নার্স এবং চিকিৎসকসহ ৪০০-৫০০ কর্মচারী। রাতে যেসব চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন তাদের জন্য বাইরে থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় খাবারের আয়োজন করতে হয়। কারণ, এ সময় কিচেন বন্ধ থাকে।
এত কম টাকায় কীভাবে রোগীদের উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হয় জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক (অর্থ ও স্টোর) ডা. বিদ্যুৎ কান্তি পাল বলেন, ‘খাবার সরবরাহকারীরা যাদের কাছ থেকে কাঁচামাল বা রান্নার সামগ্রী সংগ্রহ করে থাকে তারা কম লাভ করে। যেখানে বাজারে একটাকা লাভ করে সেখানে তাদের কাছে থেকে হয়তো ১০ পয়সা করে লাভ করে। এ কারণে এই পরিমাণ টাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। তাছাড়া জেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কম থাকে, আর এখানে প্রচুর রোগী। তাই বেশি পরিমাণে খাবার সরবরাহ করলে কিছুটা লাভ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান করতে পারে।’ তিনি জানান, এদের তো দরপত্রের মাধ্যমে কাজ দেওয়া হয়। একবছর পর পর দরপত্র আহ্বান করা হয়।








