বড়পুকুরিয়া কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনায় কোল মাইনিং কোম্পানির আট কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকে হাজির হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- কোল মাইনিং কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তাহের মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী, উপ-মহাব্যবস্থাপক একেএম খালেদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক ( মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মোরশেদুজ্জামান, উপ-ব্যবস্থাপক ( প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) জাহেদুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক ( ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্রনাথ বর্মণ, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং অপারেশন) জোবায়ের আলী।
এর আগে কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। কোম্পানির সাবেক তিন জিএম ও পাঁচ এমডিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কয়লা খনির সাবেক জিএম (মাইনিং) মীর আব্দুল মতিন, জিএম (সারফেস অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম, সাবেক এমডি মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও মো. মাহবুবুর রহমানকে সোমবার এবং সাবেক এমডি খুরশিদুল হাসান, কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান ও সাবেক জিএম (মাইনিং) মো. মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা।
খনি থেকে এক লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা গায়েবের ঘটনায় গত ২৪ জুলাই পার্বতীপুর মডেল থানায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, খনি উন্নয়নের সময় (২০০১) থেকে ১৯ জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত মোট ১ কোটি এক লাখ ৬৬ হাজার ৪২ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন কয়লা উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত কয়লা থেকে পার্শ্ববর্তী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৬৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৯ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন কয়লা সরবরাহ, বেসরকারি ক্রেতাদের কাছে ডিও’র মাধ্যমে ৩৩ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ দশমিক ৩৭ মেট্রিক টন কয়লা বিক্রি এবং কয়লা খনির বয়লারে ১২ হাজার ৮৮ দশমিক ২৭ মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার করা হয়। কয়লার উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার হিসাব করলে ১৯ জুলাই কোল ইয়ার্ডে রেকর্ডভিত্তিক কয়লার মজুত দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন। কিন্তু বাস্তবে মজুত ছিল প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা। অর্থাৎ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন কয়লা ঘাটতি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৩০ কোটি টাকা বলে জানানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ জন আসামি অনেক আগে থেকেই তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে সংঘটিত কয়লা চুরির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অনুমান করা হচ্ছে।
কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় গত ২৩ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করে দুদক। কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান উপ-পরিচালক শামসুল আলম এবং অন্য দুই সদস্য হলেন দুদকের সহকারী পরিচালক এএসএম সাজ্জাদ হোসেন ও উপ-সহকারী পরিচালক এএসএম তাজুল ইসলাম।
আরও পড়ুন- ঈদ উপলক্ষে এক সপ্তাহ’র জন্য বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু








