রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে খুব দ্রুতই প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) মিরপুরে এনডিসিদের উদ্দেশে রাখা এক বক্তব্যের পরে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, প্রথম দফায় তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই তাদের প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হবে। তবে কবে নাগাদ তাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট তারিখ বলেননি তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা আামাদের এনগেজমেন্ট বাড়িয়েছি এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি।
প্রসঙ্গত: আশির দশক থেকেই মিয়ানমার থেকে অত্যাচারিত হয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা নাগরিকদের অনুপ্রবেশ চলছিল। তবে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি দেশটির সেনাবাহিনী ও অন্য ধর্মের নাগরিকরা মুসলমান রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন ভয়াবহ নিপীড়ন চালানো শুরু করলে ওই বছরের ২৫ আগস্ট থেকে প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটে আসে। মানবিক কারণে সরকার তাদের আশ্রয় দেয় ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জনমত সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও মিয়ানমারের সেনা সমর্থিত সরকার এখনও এসব রোহিঙ্গাকে দেশে ফিরিয়ে নেয়নি। তবে শুরুতে অস্বীকার করলেও বাংলাদেশের অব্যাহত কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে যাচাই-বাছাই করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার। এ বিষয়ে উভয় দেশের মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের একাধিক বৈঠক শেষে প্রথম দলটিকে প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া চলছে।








