সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার গ্রাস থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক কাজী সিরাজের স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘দেশ এখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। যে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে আমরা লড়াই করেছিলাম, দেশের নৌকা আজ সেপথেই এগিয়ে চলেছে। কিন্তু দেশে যখন জিডিপি'র প্রবৃদ্ধির হার ৭.৬৫ ভাগ, মাথাপিছু আয় একহাজার ৭৫২ মার্কিন ডলার হয়ে গেছে, এমনকি, বাংলাদেশের প্রশংসা করতে যখন খোদ পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরা তাদের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আগামী ১০ বছরে আমাদের পর্যায়ে আসতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন, তখন এর মাঝেও আমাদের দেশের কিছু অসাধু মানুষ দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করার মধ্য দিয়ে দেশকে, দেশের পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে উন্নয়নের জোয়ার চলে এসেছে— এ কথা অস্বীকার কেউই করতে পারবে না। কিন্তু এরপরও বর্তমানে সাম্প্রদায়িকতার কালো ছায়া আমাদের অন্ধকারে নিমজ্জিত করতে চাইছে। দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন কিছু রাজনৈতিক দল দেশকে অবিরাম পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে উঠেপড়ে লেগে আছে।’
কাজী সিরাজ প্রসঙ্গে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘কাজী সিরাজসহ আমরা যারা এ দেশের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, জেল খেটেছি; আমরা লড়াই করেছি এই প্রিয় দেশটাকে দুর্নীতিমুক্ত ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত স্বাধীন দেশ করার জন্যই। কাজী সিরাজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না কাজী সিরাজ ছিলেন সারাজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন ও সৎ থেকেছেন।’ দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে আজকের সাংবাদিকদের কাজী সিরাজের জীবনী থেকে বহু কিছু শেখার আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মেনন বলেন, ‘দেশের এই সময়ে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার মতো সাহসী কলম সৈনিকের খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। কাজী সিরাজ ছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার সাহস রাখতেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন বহুমুখী প্রতিভাবান কলম সৈনিককে হারিয়েছি।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সমশের মবিন চৌধুরী, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, পরিবেশবাদী নেতা আতিকুর রহমান সালু, কাজী সিরাজের স্ত্রী ও সাবেক এমপি শাহরিয়ার আকতার বুলু প্রমুখ।








