‘অনির্বাণ আগামী’ স্লোগান নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ-২০১৮। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সার্বিক সাফল্য জনগণের কাছে তুলে ধরাই এ সপ্তাহের মূল লক্ষ্য।
বিশেষ ও সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপত ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় বিদ্যুৎ সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, বোর্ডের আওতাধীন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায় র্যালি, গ্রাহক সমাবেশ, আগত অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ মেলার আয়োজন। এছাড়াও একই স্থানে গ্রাহক সেবা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যানার, পোস্টার ও সিটিজেন চার্টার প্রদর্শন, বকেয়া আদায়ে গ্রাহকদের উদ্বুদ্ধকরণ, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, বাপবিবোর্ডের কার্যক্রমের ওপর ভিডিও চিত্র ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রদর্শন, বিদ্যুৎকর্মীদের নিরাপত্তামূলক মহড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বুধবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের মুক্তি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহের অনুষ্ঠানে জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচ বিষয়ক মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। সভাপতিত্ব করবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
এদিকে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ কর্মসূচি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অব্যাহত রাখতে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিগত বছরগুলোতে নতুন অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে ঘরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছানের লক্ষ্যে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
তিনি বলেন, ‘জ্বালানি খাতেও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত নতুন চারটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। গ্যাসের দৈনিক গড় উৎপাদন ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জ্বালানি বহুমুখীকরণের জন্য কয়লা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন বাংলাদেশের বর্ধিষ্ণু অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করবে।’
রাষ্ট্রপতি ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৮’-এর সাফল্য কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অপচয় রোধ করে এর যথাযথ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকার সবসময়ই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ১৬০০ মেগাওয়াট থেকে ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছিল। আমরাই প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উন্মুক্ত করেছিলাম।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততা ও লোডশেডিং-এ জনজীবন বিপর্যস্ত ছিল। এ অবস্থার উত্তরণের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিগত প্রায় সাড়ে ৯ বছর সরকারি ও বেসরকারি খাতে ৯৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৩ হাজার ৮১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ১৪ হাজার ১৩৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা সকলের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবো, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন। সূত্র: বাসস।
আরও পড়ুন- ২০ হাজার মেগাওয়াটের মাইল ফলক স্পর্শে আগামীকাল আলোক উৎসব








