আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর আগে শোক প্রস্তাবের ওপর সংসদে আলোচনা হয়। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ বেশ কয়েকজন সদস্য শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন। পরে এ দুই সদস্যের মৃত্যুতে রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) শোক প্রস্তাব গ্রহণ শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়।
এর আগে এই দুই সংসদ সদস্যসহ গত অধিবেশন থেকে এ পর্যন্ত দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সংসদে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকার দলের সদস্য বিএইচ হারুন।
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই সংসদ সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, ‘আমরা দু’জন দক্ষ সংসদ সদস্য হারিয়েছি। এটা খুবই অদ্ভুত যে এই নিয়ে চলতি দশম সংসদের ১৫ জন সদস্য মারা গেছেন। আমি সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
মোস্তফা রশিদী সুজাকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুজা অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সুদক্ষ নেতা ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের যে অসংখ্য নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার করে সেই অত্যাচারের শিকার হয়েছিলো সুজা। তার পায়ে ড্রিল দিয়ে ফুটো করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের অনেক সংসদ সদস্য রয়েছেন যারা বিএনপির সময় নির্যাতিত। অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় সুজার ওপর অত্যাচার চালানো হয়। ওই নির্যাতনের পরই তার শরীর ভেঙে যায় এবং দীর্ঘ রোগভোগের পর মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে সাংগঠনিক যে ক্ষতি হয়ে গেল সেটা পূরণ হওয়ার নয়।’
তাজুল ইসলামকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় তাজুল ইসলাম বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন। এই নির্বাচনটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। নির্বাচনটা যাতে অনুষ্ঠিত হয় তার জন্য তিনি খুবই আন্তরিক ছিলেন। বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে থেকে তিনি কাজ করেছিলেন। আমি সেটা দেখেছিলাম।’ তাজুল ইসলাম কুড়িগ্রাম অঞ্চলে যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, ‘পৃথিবী থেকে আস্তে আস্তে ভালো লোকগুলো চলে যাচ্ছেন। আমরা সকলেই একে একে চলে যাবো, তবে আমাদের মানুষের কাজগুলো ফুটে ওঠে। আমরা যারা আছি প্রতিমুহূর্ত যেন জনগণের জন্য কাজ করতে পারি। সংসদ সদস্য আমাদের যে দায়িত্ব রয়েছে তা যেন সঠিক পালন করতে পারি। এ বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। জনগণের জন্য তারা যে কাজ করেছে তার দ্বারাই মানুষ তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করবে।’
শোক প্রস্তাবের ওপর অন্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ, মসিউর রহমান রাঙা, আবদুস সালাম মুর্শেদী, ফখরুল ইমাম, মীর শওকত আলী বাদশা, নুরুল ইসলাম ওমর ও মনিরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।








