বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের মারকাজ কাকরাইল মসজিদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন তাবলিগের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা সাদ কান্ধলভী বিরোধী অংশ। সাদের অনুসারীদের কাকরাইল মসজিদে প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন তারা। এ নিয়ে তাবলিগ জামাতে চলছে উত্তেজনা, হয়েছে হাতাহাতির ঘটনাও। মাওলানা সাদ বিরোধী অংশকে সমর্থন দিচ্ছেন হেফাজতে ইসলামপন্থী কওমি আলেমরা। এর আগে, গত জুলাইয়ে এক সমাবেশে সাদ অনুসারীদের তাবলিগের কাজে শুরা ও ফায়সাল না রাখা ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল।
জানা গেছে, সাদকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা দীর্ঘ দিনের। সর্বশেষ শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এশার নামাজের পর সাদের অনুসারী তাবলিগের মুরুব্বিরা কাকরাইল মসজিদে প্রবেশ করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন। মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন মুরুব্বি ও সাথী হজে গিয়েছিলেন। হজ থেকে ফিরে মাওলানা মুনীর বিন ইউসুফ ও মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহসহ কয়েকজন কাকরাইল মসজিদে প্রবেশের চেষ্টা করলে তারা বাধার মুখে পড়েন। হাতাহাতিতে আহত হন কয়েকজন।
এ প্রসঙ্গে মাওলানা সাদের অনুসারী তাবলিগ কর্মী মাওলানা মনসুর আব্দুল্লাহ বলেন, ‘রাতে মসজিদের ভেতর থেকে কিছু লোক এসে মুরুব্বিদের ওপর হামলা চালায়। তাদের সঙ্গে মাদ্রাসার ছাত্ররাও ছিল। মুরুব্বিদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। হজ শেষে তারা দেশে এসে এ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।’
মাওলানা মনসুর আব্দুল্লাহ বলেন, ‘তারা এককভাবে কাকরাইল মসজিদ দখল করে আাছে। মসজিদের ভেতর থেকে আমাদের সাথীদের বের করে দিচ্ছেন। আমরা শনিবার রাতেই এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছি। রবিবার সকাল থেকে আমাদের অনেক সাথী কাকরাইল মসজিদে যেতে চাইলে তাদের ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি।’
জানা গেছে, একাধিকবার চেষ্টা করেও কাকরাইল মসজিদে প্রবেশ করতে পারেনি সাদের অনুসারীরা। রবিবার সারাদিন তারা মসজিদের বাইরে অবস্থান নেয়। মসজিদের বাইরে বিক্ষোভ করেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাদ অনুসারীরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাকরাইল মসজিদ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন দেখা গেছে।
এদিকে সাদ বিরোধীদের অভিযোগ, কাকরাইল মসজিদ দখলের চেষ্টা করেছিল সাদ অনুসারীরা। তাদের বাধায় কাকরাইল মসজিদের বাইরে অবস্থান নেন সাদ অনুসারীরা।
এর আগে গত ২৮ জুলাই হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত এক সমাবেশ অংশ নেন তাবলিগের সাদ বিরোধী অংশ। তাবলিগ জামাতে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিরোধীদের সমর্থন দেন হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফী। সমাবেশে আলেমদের পক্ষ থেকে ৬টি সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। এরমেধ্য রয়েছে, মাওলানা মুহাম্মদ সাদকে বর্জন, বাংলাদেশের কোনও জামাত বা ব্যক্তিকে ভারতের নেযামুদ্দিনে না যাওয়া, নেযামুদ্দিন থেকে আসা কোনও জামাতকে বাংলাদেশের কাজ করার সুযোগ না দেওয়া, সাদ অনুসারীদের তাবলিগের কাজে শুরা ও ফায়সাল না রাখা।
সাদ বিরোধী অংশের তাবলিগের সাথী প্রকৌশলী মাহফুজ হান্নান বলেন, ‘হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.), হযরত মাওলানা ইউসুফ (রহ.) ও হযরত মাওলানা এনামুল হাসান (রহ.) এর দেখানো পদ্ধতিতে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ সারা দুনিয়াতে চলছে। তাই তাবলিগের কাজ পূর্ববর্তী এই তিনজনের দেখানো পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। মাওলানা সাদ পথভ্রষ্ট হয়েছেন, তাকে আর অনুসরণ করা যাবে না। তাই যারা মাওলানা সাদকে অনুসরণ করবেন তাদেরও তাবলিগের কোনও দায়িত্বে থাকার সুযোগ নেই।’
সংঘর্ষ প্রসঙ্গে মাহফুজ হান্নান বলেন, ‘তারা (সাদ অনুসারী) কাকরাইল মসজিদে দখল নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। নানা উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, এতে উত্তেজনে সৃষ্টি হয়েছে। ভিড়ের মধ্যে কেউ আহত হতে পারেন, কিন্তু কারও ওপর হামলা হয়নি। তারা মাদ্রাসার ছাত্রদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’
আরও পড়ুন:








