‘অনেকে অনেক কিছুই ভাবে। আমার কারও কথা মনে না হলেও তাঁর কথা সবসময় মনে পড়ে। আমার সারাক্ষণই মনে হয়, তিনি তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। বঙ্গবন্ধুর কারণেই আমরা এখানে একত্রিত।’ মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে নিজের ৬৯তম জন্মদিন উৎসবে এসব কথা বলেন মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত শিল্পী শাহাবুদ্দিন।
খ্যাতিমান এই শিল্পীর জন্মদিনে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালায় এ উৎসবের আয়োজন করে শিল্পী শাহাবুদ্দিন ৬৯তম জন্মদিন উদযাপন জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
শিল্পী শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর শূন্যতা আমরা কোনোদিন পূরণ করতে পারবো না। তাঁর ভালোবাসা, স্নেহ এবং স্পিরিট আমি বহন করার চেষ্টা করবো। বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা, মনে হয়, আমাকে আরও দূরে নিয়ে যাবে।’
নিজের জন্মদিনের প্রাপ্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি খুব আনন্দিত, উৎফুল্ল; ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আসলে আমার ‘জয় বাংলা’র কারণেই বোধ হয় এত ভালোবাসা। এত মায়া এই ‘জয় বাংলা’র কারণেই পেয়েছি। এর চেয়ে বড় উপহার মনে হয় পৃথিবীতে খুব কম শিল্পী পেয়েছে।’
বরেণ্য এই শিল্পী বলেন, ‘বাংলাদেশে শান্তি হবে, আমরা আরও উন্নত হবো— এটাই এই জাতির কাছে কামনা। শান্তিতে বসবাস করবো আমরা এবং নিজেদের মধ্যে যাতে থাকতে পারি, একাত্তরে আমরা এক হয়েছিলাম, আবার যেন আমরা এক হই, অন্তরে জয় বাংলা রাখি— এটাই আশা।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হয়েছে, বাঙালি বলেই বাংলা ভাষা, ছবি আঁকা, সাহিত্য, কবিতা, নাটক— এসব ভেসে উঠেছে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরই এবং এটাই আমাদের সম্পদ।’
বিদেশি শিল্পীদের সঙ্গে এদেশের শিল্পীদের তুলনা করলে এখানে একটা গরম হাওয়া পাওয়া যায় এমন মন্তব্য করে শিল্পী শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘বিদেশি শিল্পীদের কাজ দেখলে বোঝা যায় আমাদের এখানে কোথায় যেন একটা গরম হাওয়া পাওয়া যায়, যেটা অন্য দেশে নাই। আমাদের স্বাধীনতার কারণেই এমনটা হয়েছে বলে আমি মনে করি।’
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আছে এদেশে এটা এখনও অনেকে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি স্যাটেলাইট আছে— এটা শুনে বিস্মিত হয় অনেকেই। এটার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমি আর কোনও নেগেটিভ নিউজ দেখি না। তাই এটা আমাদের গর্বের বিষয়।’








