আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য দেশের কারখানাগুলোয় ইনজুরি স্কিম চালু করতে মালিকরা এখনও প্রস্তুত নন বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, ‘সংশোধিত শ্রম আইনে শ্রমিকবান্ধব ৪৯টি সংশোধনী আসছে। যা মালিক, শ্রমিক ও সরকারের অংশগ্রহণে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের সর্বসম্মত অভিমতের ভিত্তিতে হচ্ছে।’ বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাংলাদেশে সফররত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
চার সদস্যের এই সফরকারি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থার পরিচালক এনি ডারউইন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাদেশের কল-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা পরের স্বাস্থ্য ও আর্থিক ঝুঁকি দূর করতে ‘ইনজুরি স্কিম’ চালুর বিষয়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে আইএলও। তাদের বলেছি, এটা ভালো কনসেপ্ট। দুর্ঘটনা হলে শ্রমিক যদি অক্ষম হয়ে যায় সে কীভাবে চলবে?’’ তিনি বলেন, ‘তবে আমাদের সামাজিক ও আর্থিক প্রেক্ষাপট এই ‘ইনজুরি স্কিম’ চালুর জন্য এখনও উপযুক্ত নয়। আমাদের যারা কল-কারখানা মালিক রয়েছেন, তারাও মানসিকভাবে এই প্রস্তাব শুনতে প্রস্তুত নন।’’
মুজিবুল হক বলেন, ‘আমি তাদের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট প্রস্তাব চেয়েছি। কাগজ-পত্র চেয়েছি। আমরা এসব নিয়ে কাজ করবো। গবেষণা করবো। স্টেক হোল্ডারদের (শ্রমিক ও মালিক) সঙ্গে কথা বলবো। তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করবো। এরপর দেখা যাবে এটা কীভাবে শুরু করা যায়। সামনে নির্বাচন। কিছুদিন পরই নির্বাচনকালীন সরকার আসছে। তাই আপাতত এটা চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
শ্রম আইনে ৪৯টি সংশোধনী আনা হচ্ছে উল্লেখ করে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যার সবই শ্রমিকদের পক্ষে। ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে এসব সংশোধনী করা হচ্ছে। আলাদা আইনে ইপিজেড পরিচালিত হয়। ওই আইনে শ্রমিকদের জন্য ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। শুধু নামে আলাদা শ্রম আইন অনুসরণ করে বাকিগুলো করা হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নের মতোই তারা কাজ করতে পারবে। ট্রেড ইউনিয়নই প্রায়, নামটা শুধু আলাদা। জাতীয় সংসদের অক্টোবরের অধিবেশনে তা পাস হবে।’ এই আইনকে মূল ধরেই ইপিজেড ওয়ার্কার্স ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন আইন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।








