শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালা করার সময় অনেকেই তিক্ত হয়েছেন। আমার কলিগরা বলেছেন, 'এই মিয়া এগুলো কী নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করো? তোমার কোনও কাজ নাই? কাজের লোকের এগুলো নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করো।’
বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র ও শাপলা নীড়ের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি ২০১৫-এর আলোকে শিশু গৃহকর্মীর সুরক্ষা ও কল্যাণে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘‘তারপর আমি প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করলাম। এরপর আমাকে কেবিনেটে নিয়ে যেতে বললেন। কেউ কিছু বলার আগে প্রধানমন্ত্রী বললেন 'ঠিক, গুড, গুড এটা পাস।’ ২০১৭ সালের মে মাসে আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমাকে একটা সুযোগ দিন, আমি এটাকে আইন করতে চাই। কারণ, আইনই কেউ মানতে চায় না, নীতিমালা কীভাবে মানবে। আইন বাধ্যবাধকতা, কিন্তু নীতিমালা তো বাধ্যবাধকতা না। তারপর আর করা হয়নি।’’
দেশে ১২ লাখ শিশু শ্রমে জড়িত উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শিশুশ্রম বন্ধে বদ্ধপরিকর। নীতিমালা হয়েছে, শিশুশ্রম বন্ধে আইন করার প্রক্রিয়াও চলছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে শিশুশ্রম নিরসন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।’
মানসিকতা যদি না বদলায় তবে এই সমস্যার সমাধান হবে না এমনটি দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গৃহকর্মী নির্যাতন কারা করে? সেই বিবি সাহেবা কিংবা সাহেবরা কি সাইকো? মানসিকভাবে অসুস্থ? আসলে তা নয়, তারা সুস্থ মানসিকতা নিয়েই গৃহের শিশুকর্মীকে নির্যাতন করছেন। মাতৃস্নেহে নিজের সন্তানদের লালন পালনকারী মায়েরাই বেশি নির্যাতন করেন শিশু গৃহকর্মীদের। আবার গৃহকর্মীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধ করবে সাহেব, আর সেই গৃহকর্মীর ওপরে বিবি সাহেবা ও তার সন্তানেরা নির্যাতন করে। শত শত কেস স্টাডিতে তা-ই দেখেছি। মানসিকতা যদি না বদলায় তবে এই সমস্যার সমাধান হবে না।’
বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, শাপলা নীড়ের নীলা শামসুন্নাহার প্রমুখ।








