প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক স্বার্থে ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন নিয়ে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আমি আপনাদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি উভয়ের পারস্পরিক স্বার্থে আপনাদের ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন নিয়ে বাংলাদেশে আসুন।’
যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার্স অব কমার্সের উদ্যোগে গ্রান্ড হায়াত হোটেলে অনুষ্ঠিত এক মধ্যাহ্ন ভোজন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘অনুগ্রহ করে, আমাদের অংশীদারিত্বমূলক মুনাফা এবং উন্নয়নের যাত্রায় শরিক হোন। আমি এক্ষেত্রে আমার সরকারের পূর্ণ সাহায্য ও সহযোগিতার নিশ্চয়তা প্রদান করছি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে সহজ বিনিয়োগ নীতি বিদ্যমান রয়েছে, যেখানে আকর্ষণীয় প্রণোদনা এবং সর্বোচ্চ মুনাফা লাভেরও সম্ভাবনা রয়েছে।’
অন্যান্য সুবিধার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বেতন-ভাতায় তরুণ, নিবেদিত প্রাণ এবং সহজে প্রশিক্ষণযোগ্য জনশক্তি, ব্যবসা স্থাপনে স্বল্প ব্যয়, বৃহৎ শুল্ক ও কোটা মুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার, স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধা, বাংলাদেশের উন্নত ক্রেডিট রেটিংয়ের সুবিধা,স্বল্পতম ঝুঁকি এবং দ্রুত প্রযুক্তির আধুনিকায়ন সুবিধা।’
বাংলাদেশের ভৌগলিক কৌশলগত অবস্থানের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভৌগলিক কৌশলগত অবস্থান বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক আউট সোর্সিয়ের উদীয়মান কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
ভারত, চীন এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আমরা এগুলোকে সংযুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ৪০০ কোটি মানুষের বাজারের একটি প্রবেশ দ্বার হতে পারে এবং দেশটির নিজেরও প্রায় ১৬ কোটি জনগণের একটি শক্তিশালী এবং ক্রমবর্ধনশীল বাজার রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা নেদারল্যান্ডের সরকারের সহযোগিতায় ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ গ্রহণ করেছি, যার লক্ষ্য হচ্ছে বন্যা এবং নদীর ভাঙন রোধ করে পানির নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। আমরা টেকসই দু’অংকের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে অবকাঠামো, যোগাযোগ এবং হাইটেক খাতকে বহুমুখীকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’
সমুদ্র অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নতুন শিল্প কারখানা এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছি, প্রায় দু’ডজন হাইটেক পার্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।’
এ বছরের মার্চ মাসে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এলডিসিভুক্ত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণের ঘোষণা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ২০০৯ সাল থেকে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা।’
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তোরণকে প্রথম পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার লক্ষ্য এখন ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তোলা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনের পর বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয় শীর্ষ সবজি উৎপাদনকারী, চতুর্থ শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী এবং তৃতীয় শীর্ষ মিঠা পানির মাছ উৎপাদনকারী দেশ।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমার বিশ্বে দ্বিতীয় তৈরী পোশাক রফতানিকারক দেশ। এর রফতানির পরিমাণ গত অর্থবছরে ৩০.৬১ বিলিয়ন ডলার এবং শিগগিরই বাংলাদেশ শীর্ষ রফতানিকারকের কাতারে উঠে আসবে বলে আশা করা যায়। সাহসী উদ্যোক্তা এবং বিদেশি বিনিয়োগে রফতানির বহুমুখীকরণে তার সরকারের পদেক্ষপ নতুন ক্ষেত্র তৈরির পথকে সুগম করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের একক সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার, যার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২০১৬-১৭ সাল নাগাদ ৭.৫ বিলিয়ন ডলার। খবর বাসস।








