রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠার সঙ্গে লেখাপড়ার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে করে তারা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শামিল হতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তোমাদের শুধু একটাই দায়িত্ব, অধিক জ্ঞান অর্জন করা আর বিশ্বকে ভালো করে জানা। যাতে করে তোমরা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পারো।’
বর্তমানে বিশ্ব খুবই প্রতিযোগিতাপূর্ণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের এখন কেবল স্থানীয় প্রতিযোগিতায় নয়, বরং সারা বিশ্বে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হওয়ার জন্য নিজেদের অবশ্যই দক্ষ করে তুলতে হবে।’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমাদের সততা ও দেশপ্রেমে উজ্জ্বীবীত হয়ে নিজেদের সোনার ছেলে হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।’
শিক্ষার মান প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি শিক্ষকদের বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানান, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের কাছ থেকে অধিকতর হালনাগাদ জ্ঞান ও তথ্য পান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের অবশ্যই অধিক থেকে অধিকতর পড়তে হবে। শিক্ষার্থীদের আলোকিত করার জন্য তাদের বেশি করে জানতে হবে।’
দেশ উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘এটি অব্যাহত থাকলে বর্তমান সরকারের ভিশনের সনদ অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে উত্তীর্ণ হতে পারে।’
১৯৬৮ সালের ১ জানুয়ারি স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হয়। ওই সময় গুরুদয়াল কলেজের তৎকালীন ভিপি হিসেবে স্কুল প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন মো. আবদুল হামিদ। তিনি তার ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং আবেগজড়িত কণ্ঠে এই স্কুল প্রতিষ্ঠার পেছনের ঘটনাবলীর উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সব পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমি গভীরভাবে অনুভব করলাম যে প্রত্যন্ত মিঠামইন এলাকায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার কোনও বিকল্প নেই।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি মো. আমির হোসেন, প্রকৌশলী রেজোয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি, রাষ্ট্রপতির সচিব সম্পদ বড়ুয়া, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সারওয়ার হোসেন, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নার আবেদীন, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, মিঠামইন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আবদুস শহীদ মিয়া, মিঠামইন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আসিয়া আলম, মিঠামইন সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরীফ কামাল অ্যাডভোকেট ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র বৈষ্ণব।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাক্ষ মোহাম্মদ আবদুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান শেষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।
পাঁচ দিনের সফরে নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে অবস্থানরত রাষ্ট্রপতি এর আগে বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক নির্মাণ কাজের অগ্রগতিসহ বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি শান্তিপুরে নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। এছাড়া তিনি জমিদার বাড়িতে (পুরাতন কাচারি বাড়ি) ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রপতি সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন। সূত্র: বাসস।








