দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সুন্দরবনের সুরক্ষায় ও পর্যটক বৃদ্ধিতে কোনও সমন্বয় নেই। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে বন বিভাগের সঙ্গে ট্যুর অপারেটর, পর্যটন বোর্ড ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। একইসঙ্গে পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা ও সচেতনা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে রবীন্দ্র সরোবরে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ট্যুরিজম ফেস্টের এক আলোচনা সভায় বক্তরা এসব কথা বলেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) এর উপদেষ্টা ও বেঙ্গল ট্যুরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ হোসেন বলেন, ‘২৫ শতাংশ মানুষ দেশের বিভ্ন্নি জেলা থেকে আসেন। পর্যটকদের মধ্যে ১০ শতাংশ মানুষ সুন্দরবনে রাত্রীযাপন করেন। বাকি ৯০ শতাংশ মানুষ দিনে এসে ঘুরে যান।’
এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সাধারণ সম্পাদক আনজিম আনোয়ার বলেন, পর্যটন বিকাশ ও সুরক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে। যেকোনও উদ্যোগে গণমাধ্যম সবসময় সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে নীতি নির্ধারকদের উচিত গণমাধ্যমকে সহায়তা করা।’
প্যাসেফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান বলেন, ‘পর্যটক বিকাশ সরকারি-বেসরকারি সব উদ্যোগের সমন্বয়ে প্রয়োজন। সমন্বয় না থাকলে কোনও উদ্যোগ এককভাবে সফল হবে না।’
বেঙ্গল ট্যুরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ হোসেন বলেন, পর্যটকদের ৭০ শতাংশ তরুণ। তারাই সুন্দরবনের ভেতরে গিয়ে ঘুরে আসেন, রাত্রী যাপন করেন। এই তরুণরাই সুন্দরবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ বয়সীরা নিয়ম মানতে চায় না। সুন্দরবনের সুরক্ষার জন্য পর্যটকদের সচেতন করা জরুরি।
বন বিভাগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সুন্দরবনের সুরক্ষার দায়িত্ব বন বিভাগের। কিন্তু তাদের জনবলের সংকট রয়েছে। সুন্দরবনে গাছ কেটে, মাটি ভরাট করে র্যাব, কোস্টগার্ডের আউট পোস্ট বানানো হয়েছে। বন বিভাগ এসব বন্ধ করতে পারেনি। সুন্দরবনের ভেতরে মালবাহী জাহাজ যায়, নদী ভরাট হয় এসবও বন্ধ হয়নি।
বন অধিদফতরের সহকারী প্রধান বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ‘সচেতনার অভাব একটি বড় সমস্যা। সবাই সচেতন থাকলে সুন্দরবন সুরক্ষা সহজ হতো। সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থার কাজের মধ্য সমন্বয়হীনতা কমিয়ে আনতে হবে। আমরা অনেক পরিকল্পনা নিয়ে এগোই। কিন্তু পরিল্পনাগুলো শেষ পর্যটন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কাটছাট হয়ে যায়। তাই আলোচনার মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কেও যুক্ত করতে হবে। তাদেরও উপলব্ধি করতে হবে সমস্যা সমাধানে কী প্রয়োজন। সমস্যা সমাধান এত সহজ নয়, তবে আমরা সমাধানের পথে এগুতে পারি।’
আগামীকাল শনিবার উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। উৎসবের টাইটেল স্পন্সর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, পাওয়ার্ড বাই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সহ-পৃষ্ঠপোষক নভোএয়ার, রংধনু গ্রুপ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও দ্য ওয়ে ঢাকা। এছাড়া ফেস্টিভ্যালে ফুড পার্টনার ওয়েল ফুড। ট্যুরিজম ফেস্ট ২০১৮-এ সহযোগী পার্টনার বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, টোয়াব ও আটাব।








