ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা সংক্রান্ত অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। বুধবার (০৩ অক্টোবর) সকালে দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘কারা এই ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত অনুসন্ধানের পর তা বলা যাবে। এরসঙ্গে যেই জড়িত থাক না কেন আমরা আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবো।’
এস কে সিনহার ভাই অনন্ত কুমার সিনহার সম্পদ তদন্তের বিষয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আপনাদের কাছ থেকে যতটুকু তথ্য পাওয়া সেখানে দেখা যায়, এস কে সিনহার ভাই অনন্ত কুমার সিনহার মাধ্যমে ২ লাখ ৮০ হাজার ডলারে একটি বাড়ি ক্রয় করা হয়েছে। আমরা যতটুকু জানি যখন কোনও ব্যক্তি কোনও দেশে যান, দুই বছর আগে তার পক্ষে সেই দেশের নাগরিক হওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু তিনি নাগরিক হতে পারেননি, সেহেতু তার অবৈধ সম্পদ দেখার বিষয়টি আমাদের দায়িত্ব। সে কারণে অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছি।’
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাখ ও কোটির অংকে ২৬ বার লেনদেন হয়। সুপ্রিম কোর্ট শাখার ব্যক্তিগত বেতন অ্যাকাউন্টে এ টাকার লেনদেন হয়। ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর পে-অর্ডারের মাধ্যমে চার কোটি টাকা জমা হওয়া ও এস কে সিনহার অ্যাকাউন্ট থেকে তার ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার শাহজালাল ব্যাংকের উত্তরা শাখায় এক কোটি ৪৯ লাখ ৬ হাজার টাকা ও ৭৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা জমা করার তথ্য পাওয়া যায়।
সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বেতন অ্যাকাউন্টের বিবরণী, নরেন্দ্র কুমারের শাহজালাল ব্যাংকের হিসাব বিবরণী, তার অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদন পত্র, নরেন্দ্র কুমার সিংহ এর সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সম্পাদিত চুক্তিনামা, নিরঞ্জন সাহার অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফরম, তার পে-অর্ডার থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা নামের এক ব্যক্তি ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় একটি ঋণ অ্যাকাউন্ট খোলেন। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় তিনি তার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে প্রধান বিচারপতির উত্তরার বাড়ি নং-৫১, রোড নং-১২, সেক্টর-১০ উল্লেখ করেন। ঋণ অ্যাকাউন্টে এই ব্যক্তি কোনও টিন বা পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ করেন না। ঋণ একাউন্ট খোলার একদিন পর ৮ নভেম্বর তারিখে নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ২ কোটি টাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অ্যাকাউন্টে পে-অর্ডারের মাধ্যমে পাঠান। ২ কোটি টাকার পে-অর্ডারটি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বেতন অ্যাকাউন্টে ৯ নভেম্বর তারিখে জমা হয়।
একইভাবে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর মো. শাহজাহান নামে একজন ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় অন্য আরেকটি ঋণ অ্যাকাউন্ট খোলেন। শাহজাহানের বর্তমান ঠিকানা হিসেবেও প্রধান বিচারপতির উত্তরার বাড়ি উল্লেখ করা হয়। শাহজাহানেরও কোনও পাসপোর্ট বা টিন নম্বর দেওয়া হয় না। তিনি নিজ ঋণ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮ নভেম্বর তারিখে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে ২ কোটি টাকার পে-অর্ডার প্রদান করেন। এই পে-অর্ডারটিও সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বেতন অ্যাকাউন্টে ৯ নভেম্বর জমা হয়।








