ভোটের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ইসি, সভা বসছে ১৫ অক্টোবর

এমরান হোসাইন শেখ
০৮ অক্টোবর ২০১৮, ২১:২১আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ২১:২৯

ভোটের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ইসি, সভা বসছে ১৫ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। কমিশন সচিবালয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ইতোমধ্যে তাদের সব কাজ ‍গুছিয়ে এনেছে। তফসিল উপলক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দেবেন, তারও খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর কমিশন সভায় সচিবালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরা হবে। ওইদিন নির্বাচনের তারিখসহ তফসিল ঘোষণার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ইসির নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় শাখাসহ সব বিভাগে কাজ ভাগ করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইসি সচিবালয় নির্বাচনের করণীয় বিষয়ে একটি চেকলিস্টও তৈরি করেছে। এসব কাজ সমন্বয় করে ইসি সচিবালয় থেকে আগামী কমিশন সভায় ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নসূচি‘র চূড়ান্ত কপি উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে ১৫ অক্টোবর সকাল ১১টায় ৩৬তম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভার প্রধান এজেন্ডা হচ্ছে—একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে কমিশনকে জানানো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেলজিয়াম সফররত ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমিশন সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। ভোটারতালিকা, সীমানা নির্ধারণ, ব্যালট পেপার, কাগজ-কালিসহ ইসির প্রস্তুতি কোনপর্যায়ে রয়েছে, তা কমিশনকে জানানো হবে।’

এর আগে জাতীয় নির্বাচনের জন্য নির্বাচন সচিবালয়ের ৮০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা গত মাসের মাঝামাঝিতে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ৩১ অক্টোবরের পর যেকোনও দিন ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনই এ নিয়ে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্রের খসড়া চূড়ান্ত (ভোটকেন্দ্র—৪০ হাজার ১৯৯টি ও ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি)। মাঠ প্রশাসনের কাছে ভোটার তালিকার সিডি পাঠানো, সিল, প্যাড কালিসহ নির্বাচনি সামগ্রী ক্রয়, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় সিইসি জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দেবেন, তারও খসড়া কমিশন সচিবালয় তৈরি করেছে। পাশাপাশি নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা ও ম্যানুয়াল তৈরির প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে। অবশ্য এ কাজ দুটির জন্য ইসি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধনীর জন্য অপেক্ষা করছে বলে কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আরপিও সংশোধনী হলেই সঙ্গে সঙ্গে তারা এটি সম্পন্ন করবে বলে জানান।

আগামী ১৫ অক্টোবরের বৈঠক ও নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে ১৫ অক্টোবরের কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, অনুষ্ঠানের ইসির যাবতীয় প্রস্তুতিই শেষের পথে। বাকি কাজগুলোও আমরা সময়মতো শেষ করতে পারবো।’

এই সভায় তফসিল ঘোষণার বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘তফসিলের জন্য আমাদের আরপিও এর বিষয়ে সিদ্ধান্ত পেতে হবে। সেটা পেলে কমিশন হয়তো আরেকটি সভা করে তারপরই তফসিল ঘোষণা করবে।’

ইসির কর্মকর্তারা জানান, সংবিধান অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসেবে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তারা জানান, সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর ৪৪-৪৭ দিন সময় রেখে সংসদের ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। এই হিসাবে নভেম্বরের প্রথম ভাগে তফসিল ঘোষণা করে ডিসেম্বরের শেষ ভাগে ভোট হবে। কমিশনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে তারা এগুচ্ছে। এক্ষেত্রে ৬ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার বিষয়ে জোরালো আলোচনা রয়েছে।

এর আগে দশম সংসদ নির্বাচন হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। তফসিল ঘোষণা করা হয় ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর। বিএনপিসহ সমমনা কয়েকটি দল ওই নির্বাচন বর্জন করে। তার আগে নবম সংসদ নির্বাচনের তফসিল হয় ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর। তিন দফা তারিখ পরিবর্তন করে ভোট হয় ২৯ ডিসেম্বর। প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগে ৬০ দিন, দ্বিতীয় ৫৪ দিন, তৃতীয় ৪৭ দিন, ৪র্থ ৬৯ দিন পঞ্চম ৭৮ দিন, ষষ্ঠ ৪৭ দিন, সপ্তম ৪৭ দিন, অষ্টম ৪২ দিন, নবম সংসদ নির্বাচন ৪৭ দিন ও দশম সংসদ নির্বাচনে ৪২ দিন সময় হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করেছিল কমিশন।

/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম