তরুণদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়তে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণদের মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। তাদের প্রযুক্তি সম্পর্কে আরও জানতে হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য যা যা করা দরকার আমরা তা করবো।’ রবিবার (২১ অক্টোবর) সকালে গণভবনে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার বর্তমানকে উৎসর্গ করছি তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য। আমাদের বর্তমান যেভাবেই হোক কেটে যাচ্ছে, আমরা তো চলেই যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের বর্তমানে যতটুকু কাজ আমরা এগুতে পারি সেটা আমরা উৎসর্গ করেছি তরুণদের জন্য। যারা আমাদের ভবিষ্যতকে গড়ে তুলবে, এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই চলার গতিটা যেনো কখনো থেমে না যায়।’
তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছেলে মেয়েদের এটাই বলবো যে মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া শিখতে হবে। আর প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও অভ্যস্ত হতে হবে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। যতদিন যায় প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তি বের হয়।’
সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের ব্রডব্যান্ড সার্ভিস একাবারে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। প্রতিটি গ্রামকে আমরা শহরে উন্নীত করছি।’
ই-ফাইলিং সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বাইরে গেলেই এখান থেকে সোজা ফাইল চলে যায়। সেখানে বসে কাজ করি। একটা কর্মঘণ্টাও আমার নষ্ট হয় না। নতুন প্রযুক্তি যে সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে এটা আমাদের দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজে লাগছে, লাগবে।’
মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি’ (এমএনপি) সেবা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার আরেকটি পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। একটা সিম থেকে যেকোনও অপারেটরে আরেকটা সিমে নাম্বার পরিবর্তন করা বা একটা অপারেটর থেকে আরেকটা অপারেটরে যাওয়ার যে আধুনিক প্রযুক্তি পৃথিবীর খুব সীমিত দেশ ব্যবহার করে। আমরা সেই যুগে প্রবেশ করছি। যদিও এটা একটা জটিল বিষয়, সেটাকে আজকে সহজভাবে করে দেওয়া হয়েছে। এই এমএনপি সেবা অনেকের জন্য সুবিধা হবে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ১ অক্টোবর তাদের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমএনপি সেবা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। বিটিআরসি জানায়, বর্তমানে ৭২টি দেশে এমএনপি সেবা চালু রয়েছে। পাকিস্তানে ২০০৭ সালে ও ভারতে ২০১১ সালে এ সেবা চালু করা হয়।








