ট্রেড ইউনিয়নের শর্ত শিথিল করে শ্রম আইনের সংশোধনী পাস

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৪ অক্টোবর ২০১৮, ২১:২৫আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ২১:২৮



জাতীয় সংসদ (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

ট্রেড ইউনিয়ন করার শর্ত শিথিল করে শ্রম আইনের সংশোধনী বুধবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিস্পত্তি শেষে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী বাংলাদেশের বিদ্যমান শ্রম আইনকে আরও যুগোপযোগী ও শ্রমিকবান্ধব করতে এ আইনের সংশোধনী আনা হয়।
আগে ট্রেড ইউনিয়ন করার জন্য ৩০ শতাংশ শ্রমিকের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। এখন তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। আগে ট্রেড ইউনিয়ন করার জন্য আগে ধর্মঘট ডাকার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের মত গ্রহণের বিধান ছিল। এখন সেটা কমিয়ে ৫১ শতাংশ করা হয়েছে।
সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নারী শ্রমিককে প্রসব-পরবর্তী আট সপ্তাহ পর্যন্ত কাজে অনুপস্থিত থাকার অনুমতি দিতে হবে। এই বিধানে আরও বলা হয়েছে, ছুটিতে যাওয়ার আগে কোনও নারী শ্রমিকের গর্ভপাত ঘটলে তিনি প্রসূতিকল্যাণ সুবিধা পাবেন না। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে ছুটির প্রয়োজন হলে তিনি তা ভোগ করতে পারবেন।
বিলে বলা হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে কারখানা ও শিল্পের ক্ষেত্রে এক দিন এবং দোকান ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেড় দিন ছুটি পাবেন। কোনও শ্রমিককে কোনও উৎসব বা ছুটির দিনে কাজ করতে বলা যাবে। তবে এ জন্য তাকে এক দিনের বিকল্প ছুটি ও দুই দিনের ক্ষতিপূরণমূলক মজুরি দিতে হবে।
আইনে বলা হয়েছে, ২৫ জনের বেশি শ্রমিক আছেন— এমন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের আনা খাবার খাওয়া, বিশ্রামের জায়গা রাখা এবং পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। খাবার কক্ষ যথেষ্ঠ আলোকিত এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সহনীয় তাপমাত্রায় রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।
প্রস্তাবিত আইনে বেআইনি ধর্মঘটের শাস্তি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে বেআইনি ধর্মঘট করলে শাস্তি ছিল এক বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা। নতুন আইনে সাজা ছয় মাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে জরিমানা আগের মতোই পাঁচ হাজার টাকা থাকছে।
বিলে কর্মক্ষেত্রে কর্মরত অবস্থায় কোনও শ্রমিক মারা গেলে দুই লাখ টাকা এবং দুর্ঘটনায় স্থায়ীভাবে পঙ্গু হলে আড়াই লাখ টাকা শ্রমিককে দিতে হবে। আগে এই ক্ষতিপূরণ ছিল এক লাখ ২৫ হাজার টাকা।
বিলে উৎসবভাতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংশোধনী হলো, ১৪ বছরের কমবয়সী কোনও শিশুকে কোনও কারখানায় নিয়োগ দেওয়া যাবে না। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের কারখানায় হালকা কাজে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে। আগে ১২ বছরের শিশুরা হালকা কাজের সুযোগ পেতো। ১৪ বছরের নিচে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু শিল্প সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে কর্মস্থলে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে, পেশাগত স্বাস্থ্য, নিরাপদ কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া সহজ করা, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা করা এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য এই বিল আনা হয়েছে।’

/ইএইচএস/এইচআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম