উন্নয়ন অব্যাহত রাখতেই ঘনঘন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক এবং বেশি বেশি প্রকল্প অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রবিবার (৪ নভেম্বর) উপস্থাপিত ৩৯টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৬৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। একনেকের এক বৈঠকে এটাই সর্বোচ্চ প্রকল্প অনুমোদনের রেকর্ড।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর একনেক সভা আর হবে না। গত মঙ্গলবার একনেকে ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। চারদিন পরই রবিবার একনেকে উঠেছে আরও ৩৯টি উন্নয়ন প্রকল্প। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
রবিবার একনেক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সাধারণত বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেন না। এ সময় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া আমরা উন্নয়নের মাধ্যমে এমন পথ তৈরি করতে চাই, যাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও ওই পথেই হাঁটতে পারেন। পরিবেশ তৈরি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দেওয়া হবে। উন্নয়নের গতি থামানো যাবে না। নির্বাচন চলবে, আবার উন্নয়নও হবে। কোনটিই স্থগিত করা ঠিক নয়। উন্নয়ন অব্যাহত রাখতেই ঘনঘন একনেক বৈঠক এবং বেশি বেশি প্রকল্প অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, পল্লি অবকাঠামো, দারিদ্র্য বিমোচন এবং গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে বেশ কিছু প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, বৃহত্তর ঢাকার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে আলাদা প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। তিন পার্বত্য জেলার ক্ষতিগ্রস্ত পল্লি সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, কুড়িগ্রাম ও জামালপুরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, গ্রামীণ রাস্তা টেকসই এবং গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের প্রকল্পগুলোও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলার পাঁচটি পৌরসভা, ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা লেক উন্নয়ন, টাঙ্গাইল জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের নতুন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে আজকের একনেক বৈঠকে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, ঢাকায় কর্মরত পুলিশের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন নির্মাণ এবং অভিযানে সক্ষমতা বাড়াতে যানবাহন ক্রয়সহ মোট পাঁচটি প্রকল্প উঠছে রবিবারের বৈঠকে। এছাড়া র্যাবের প্রযুক্তি ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে ওঠানো হচ্ছে আরেকটি প্রকল্প। বাংলাদেশ পুলিশের অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে ৯৯৪টি যানবাহন কেনার প্রস্তাব দিয়েছে জননিরাপত্তা বিভাগ। এসব গাড়ি ক্রয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা। এছাড়া পুলিশের ৫০ হাজার জনবল বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় পুলিশের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির অন্যতম বাধা যানবাহনের এই ঘাটতি অতি দ্রুত পূরণ করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের আবাসিক সংকট নিরসনে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় নয়টি আবাসিক টাওয়ার ভবন নির্মাণ প্রকল্পও একনেকে ওঠানো হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে ৩৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য কর্মরত আছেন। কিন্তু ঢাকায় কর্মরত এ বিশাল পুলিশ বাহিনীর জন্য চাহিদার তুলনায় আবাসন সুবিধা অপ্রতুল। এ কারণে প্রকল্পের আওতায় নয়টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ২০ তলা ভবন নির্মাণ হবে চারটি, একটি ১৫ তলা ও দুটি ২০ তলা।
এছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য ঢাকার গুলশানে আবাসিক ভবন নির্মাণে ১১৯ কোটি টাকার আরও একটি প্রকল্পও একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণ করা হবে ১৪ তলা আবাসিক ভবন। এসব ভবনে মোট ফ্ল্যাটের সংখ্যা হবে ৫২টি। বাংলাদেশ পুলিশের সন্ত্রাস দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ কেন্দ্র নির্মাণে ৩৫৪ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাবও একনেকে উঠছে। অন্যদিকে, হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতেও একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।








