আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান ও আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এখন এমন নীতি-আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধ করে কেউ শাস্তি এড়াতে পারে না।’ সোমবার (০৫ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচারপতি সিকান্দার আলী স্মৃতি বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতা বা রাজনৈতিক পরিচয়ে কোনও অপরাধী এখন আর বিচার এড়াতে পারেনা। প্রত্যেক অপরাধীই তাদের স্ব-স্ব অপকর্মের জন্য দায়ী।’ তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন সংবিধানের অন্যতম মূল ভিত্তি হলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে এর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। বাংলাদেশে আইনের শাসনের নীতির সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন ঘটেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর। কারণ এই হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক একটি ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচারে পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এই অর্ডিন্যান্স ছিল বাংলাদেশের একটি কালো আইন।’
আনিসুল হক বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর এই অর্ডিন্যান্সকে শুধু আইনেই পরিণত করেননি, তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়ও দিয়েছিলেন। খুনিদের রক্ষা করেছিলেন, জামায়াতের নেতা ও রাজাকারদের আইনগত বৈধতা দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি (জিয়াউর রহমান) বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রার্থীদের আইনে সমান আশ্রয় লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে চলমান রাজনৈতিক সংলাপ নিয়ে আইনমন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি চলমান আলাপ-আলোচনার একটি পার্ট, আমাদের দলনেতা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের যে অবস্থান, তা তিনিই সংলাপে উপস্থাপন করবেন। এ ব্যাপারে আমি কোনও ব্যাখ্যা দেবো না।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিচারপতি সিকান্দার আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক ড. নাইমা আক্তার, বিচারপতি সিকান্দার আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ডের দাতা সারওয়ার সুলতানা প্রমুখ।








