ভাষা জনগণের সম্পদ এবং লেখক, সাহিত্যিক, শিল্পীরা এর অভিভাবক বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শামীম রেজা। তিনি বলেন, “কীভাবে ভাষা সম্পদ হলো এবং লেখক, সাহিত্যিক, শিল্পীরা এই সম্পদের অভিভাবক হলো? এর উত্তরে কবির ভাষায় বলতে হয়- ‘ওগো নদী, আপন বেগে পাগল-পারা, আমি স্তব্ধ চাঁপার তরু গন্ধভরে তন্দ্রাহারা। আমি সদা অচল থাকি, গভীর চলা গোপন রাখি’– চাপা গাছটা অচল থাকছে কিন্তু চলাটা গোপন থাকছে। গাছ যেমন ঘ্রাণ বিলিয়ে যাচ্ছে, সাহিত্যিকরাও ঠিক অন্তরঙ্গভাবে মানসিকতার মধ্যে প্রবেশ করছে।”
সোমবার (৫ নভেম্বর) দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের ‘সাহিত্য: সত্তাবোধের ঠিকানা’ শীর্ষক বৈঠকিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এ যুগেও বইয়ের প্রকাশ ও প্রচার বেড়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মোটা মোটা বইগুলো আরও বেশি করে প্রকাশ করা হচ্ছে। আমাদের এবারের আয়োজনে শীর্ষেন্দু আসছেন। তার একটি বই দুই লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। এই সময়ে তাই ভাবনার বিষয় হলো কারা এই বইগুলো পড়ছে?’
লিট ফেস্ট আয়োজনের পর থেকে বাংলা ভাষার বই ইংরেজিতে অনুবাদের প্রবণতা বেড়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি লিট ফেস্ট শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলায় প্রকাশিত বইগুলো অনুবাদ করে ইংরেজিতে ছাপা হচ্ছে। অনুবাদের মান যেই ধরনেরই হোক, এই কাজগুলো আগে কি হয়নি? তখন এগুলো কাদের দায়িত্বে ছিল? রাষ্ট্র কি করেছে? আমাদের বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি এই দায়িত্বে ছিল। তারাও এই কাজগুলো করেছেন, কিন্তু খুব ঢিমেতালে। তবে এখন এই কাজটা জোরালোভাবে হচ্ছে।’
বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয় বাংলা ট্রিবিউনের সাপ্তাহিক এই আয়োজন। রাজধানীর শুক্রাবাদে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে বৈঠকি সরাসরি সম্প্রচার করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। এ আয়োজন বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে লাইভ সম্প্রচার করা হয়।
মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে অংশ নিয়েছেন কথা সাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের, সাহিত্যিক ও বাংলা ট্রিবিউন এবং ঢাকা ট্রিবিউনের প্রকাশক কাজী আনিস আহমেদ, কবি ও ঢাকা লিট ফেস্ট পরিচালক সাদাফ সায্ সিদ্দিকী, কবি ও ঢাকা লিট ফেস্ট পরিচালক আহসান আকবর।








