৭ নভেম্বর দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বীরবিক্রম কর্নেল নাজমুল হুদার সন্তান ও শিক্ষক নাহিদ নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, ‘এ দিনে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হলেও দিবসটি উদযাপন করা হতো। এ দিনটি জাতীয় দিবস উল্লেখ করে ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে। আসলেই আমরা অভাগা জাতি।’
মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর শুক্রাবাদে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিওতে আয়োজিত বৈঠকিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ নাজমুল হুদা বলেন, “আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর তিনি যুদ্ধে চলে যান। আমি তখন ৩ মাসের শিশু। মা বলেছেন, ‘বাবা আমাদের কথা চিন্তাও করেননি।’ এর ৯ মাস পরে তিনি ফিরলেন। একটি স্বাধীন দেশের পতাকা উপহার দিলেন।”
তিনি বলেন, ‘বাবা সর্বশেষ রংপুরের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর তারিখ সকালে বাবা বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ওইদিনই বাবাকে হত্যা করা হয়। ১০ নভেম্বর আমরা ঢাকায় আসি। আমার মা জিয়াউর রহমানকে ফোন করলেন, তার স্বামীর মরদেহ যেন দেওয়া হয়। তিনি রাজিও হয়েছিলেন। কিন্তু বলেছিলেন, তার মরদেহ নেওয়ার জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে। আমার মা বলেছিলেন, তাদের বুকের কাছে যেন জাতীয় পতাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা দেননি। এরপর বাবার মরদেহ আনা হলো- একটি সাদা কাপড়ে তা মোড়ানো ছিল। তখন আমার বয়স ৫ বছর। আমার সব মনে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ৭ নভেম্বর দেশের সরকারি ছুটির দিন পালন করা হতো। আসলে আমরা একটি অভাগা জাতি।’
বৈঠকি অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজ থেকেও বৈঠকি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে অংশ নিয়েছেন বীরবিক্রম কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম, জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মুশতাক হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ মহিউদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ ও বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম।








