জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে টঙ্গিতে বিশ্ব ইজতেমা করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান দিল্লির নিজামুদ্দিনের মাওলানা সা’দ কান্ধলভির অনুসারীরা। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ আহ্বান জানান।
জানুয়ারির ১১, ১২, ১৩ তারিখে ইজতেমা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছিলেন সাদ অনুসারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাবলিগকর্মী অ্যাডভোকেট মো. ইউনুস মোল্লা। তিনি বলেন, ‘ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংঘ তাবলিগ জামাত। সম্প্রতি আধিপত্যবাদী ও বিপথগামী কতিপয় ব্যক্তির মিথ্যা প্রচারে সরকারের একটি মহল বিভ্রান্ত ও নতজানু হয়ে তাবালিগের মেহনতের ওপর বাধানিষেধ দিচ্ছে।’
অ্যাডভোকেট মো. ইউনুস মোল্লা বলেন, ‘মাওলানা মোহাম্মদ যোবায়ের, মাওলানা রবিউল, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা ফারুক, মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন কাকরাইল মসজিদ মাদ্রাসার ভবন নির্মাণকাজের ঠিকাদার ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান, ইঞ্জিনিয়ার আনিছ, ডা. আজগর কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে আধিপত্য বিস্তার করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘কাকরাইল মসজিদের সীমানার মধ্যে অবস্থিত মাদ্রাসাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মাদ্রাসার অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোমলমতি ছাত্রদের ব্যবহার করছেন। এই প্রতিক্রিয়াশীল ও প্রতারকচক্র কাকরাইল মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে কাকরাইল মসজিদে ভীতি প্রদর্শন, দখলদারি, মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা করছেন।’
লিখিত বক্তব্যে ইউনুস মোল্লা আরও বলেন, ‘মাওলানা সা’দ হলেন বিশ্ব আমির, তিনি যেখানে যাবেন, বিশ্বের মানুষ সেখানেই যাবেই। তিনি যেখানে যাবেন না, সেখানে কখনও বিশ্ব ইজতেমা হতে পারে না। বাংলাদেশে দিনের দাওয়াত ও তাবলিগের মোট ১১ জন শুরা আছেন, যাদের মধ্যে মাওলানা মোজাম্মেল হক ছাড়া বাকিদের প্রত্যেককে নিয়োগ করেছেন বর্তমান বিশ্ব আমির হজরত মাওলানা সা’দ।’ তিনি বলেন, ‘১৮ সেপ্টেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে, যা একটি ভালো উদ্যোগ ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রকারীদের কালো হাতের প্রভাবে বিভ্রান্ত হয়ে জারিকৃত পরিপত্রটি বিগত ২৪ সেপ্টেম্বর স্থগিত করে পুনরায় সংকট বহাল রাখা হয়।’
অ্যাডভোকেট ইউনুস মোল্লা বলেন, ‘আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পাঁচ দিনের জোড় এবং ১১, ১২, ১৩ জানুয়ারি টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা করতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তপেক্ষ কামনা করি।’ একইসঙ্গে ইজতেমা অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনেরও সহযোগিতা চান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টঙ্গি ইজতেমা মাঠের জিম্মাদার ইঞ্জিনিয়ার মুহিবুল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) রফিকুল ইসলাম, রুহুল আমিন, কাকরাইল মসজিদের মুরুব্বি মাওলানা সাইফুল্লাহ প্রমুখ।








