মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০২২’ গ্রহণ করেছে সরকার। রবিবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই কর্মপরিকল্পনার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে এই জাতীয় পরিকল্পনাকে সমন্বিত করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও সরকার সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগণকে আশ্রয় দিয়েছে। সংবিধানে যেকোনও ধরনের মানবাধিকার রক্ষার কথা বলা আছে। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবপাচার রুখতে অঙ্গীকার করেছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানবপাচারের মতো বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে ইতোমধ্যে বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা যখন যাত্রা শুরু করেছি তখন আমাদের ধরে নিতে হবে যে মানবপাচার একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। মানবপাচার সমস্যা সৃষ্টির মূলে রয়েছে মানুষের মরিয়া চেষ্টা, পর্যাপ্ত শিক্ষার অভাব, কী করতে হবে, কী না— সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকা। আমরা সমস্যাটি যথাসময়ে ধরতে পেরেছি এবং সঠিক সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’
বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেন, “মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়টি মার্কিন সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশকে ‘টায়ার-২ ওয়াচ লিস্ট দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সর্বনিম্ন ধাপের কাছাকাছি। পরবর্তী প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশের অবস্থার উন্নীত করার জন্য আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে। ১. পাচারকারীদের দ্রুত প্রসিকিউশনের আওতায় আনতে হবে, ২. পাচারের শিকার সব ব্যক্তির জন্য সহায়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ৩. মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া।’
উল্লেখ্য, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক বাস্তবায়িত ইউএসএইডের ‘বাংলাদেশ কাউন্টার ট্রাফিকিং ইন পারসনস প্রোগ্রাম’ এই জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতে সার্বিক সহায়তা করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএসএইড বাংলাদেশের মিশন ডিরেক্টর ডেরিখ এস ব্রাউন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া প্যাসিফিক বিষয়ক সচিব মাহবুব উজ জামান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবু বকর সিদ্দিকি প্রমুখ।








