স্থানান্তর হচ্ছে না শিশুপার্ক, চলছে আধুনিকায়ন

শাহেদ শফিক
১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:০৯আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:২৬

শিশু পার্ক মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থান রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এক পাশে অবস্থিত শিশুপার্কটি স্থানান্তর করা হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এ স্থানটি সংরক্ষণ করতে দীর্ঘদিন ধরে পার্কটি স্থানান্তরের কথা জানানো হলেও সে উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে সরকার। বরং পার্কটির আধুনিকায়নে ২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ কাজ শেষ করা হবে। এ প্রকল্পে শুধু পার্কের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য ৭৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এরই মধ্যে পার্কটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য ২৬ মার্চের মধ্যে রাজধানীর শাহবাগ থেকে শিশুপার্ক স্থানান্তর করা হবে। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নাকচ করে দেন। পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সঙ্গে একীভূত করে পার্কটির আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, পার্কে ঘুরতে আসা শিশুরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাস টাওয়ার দেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে। প্রকল্পে শিশুপার্কের পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। গ্লাস টাওয়ারের দৃষ্টিসীমায় যেন বিঘ্ন না ঘটে সে কথা মাথায় রেখে স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। শিশু পার্ক

এরই মধ্যে পার্কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। পার্কে নতুন রাইড বসিয়ে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিচে তৈরি হবে ভূ-গর্ভস্থ ৫০০টি গাড়ি রাখার পার্কিং। নির্মাণ করা হবে পার্ক ও উদ্যান মিলিয়ে কয়েকটি ফুড কোর্ট। এছাড়া দৃষ্টিনন্দন জলাধারসহ হাঁটার পথ, দর্শনার্থীদের জন্য বসার স্থান, আন্ডারপাস, মসজিদসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রণীত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদফতর। শিশুপার্কের আধুনিকায়নের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এজন্য সংস্থাটিকে মূল বরাদ্দ ২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে ৭৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এ থেকে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার জন্য কনসালটেন্সি ফি বাবদ এক কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। পাঁচ কোটি টাকা রাখা হয়েছে পুরনো স্থাপনা অপসারণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে। বাকি ৭৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে ১৩টি ইকুয়েপমেন্ট ও আন্ডার গ্রাউন্ড পার্কিং নির্মাণে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ পর্যন্ত। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিডেট (এনডিই) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে শিশু-কিশোরদের জন্য গড়ে ওঠা সরকারি এই বিনোদন কেন্দ্রটির সব রাইডই মেয়াদোত্তীর্ণ। ৩৯ বছরের পুরনো এসব রাইডের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৯ বছর আগে। ফলে ঝুঁকি নিয়েই এসবে চড়ছে শিশুরা। পার্কের পরিবেশও ভালো নয়। তা সত্ত্বেও শিশুদের অন্যতম আকর্ষণ এই পার্কে ভিড় লেগেই থাকে। রাইডগুলোতে ওঠার পর আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরা। বিষয়টি চিন্তা করে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিশু পার্ক

সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শাহবাগ সংলগ্ন অংশে ১৫ একর জায়গায় গড়ে ওঠা পার্কটির ভিস্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় ১৯৭৮ সালের ২৩ নভেম্বর। পরের বছরের ১১ জুলাই পার্কটি খুলে দেওয়া হয় শিশুদের জন্য। সে সময় পার্কের রাইডগুলো জাপানের মিশো করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে।

জানা গেছে, শুরুতে পার্কে রাইডের সংখ্যা ছিল ১৪। তবে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আর্চারি, বেবি সাইকেল ও স্কেটিং রাইড বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে সচল ১১ রাইড হলো রোমাঞ্চ চক্র, আনন্দ ঘূর্ণি, এসো গাড়ি চড়ি, উড়ন্ত বিমান, উড়ন্ত নভোযান, ফুলদানি আমেজ, ঝুলন্ত চেয়ার, লম্ফ ঝম্ফ, এফ-৬ জঙ্গিবিমান, রেলগাড়ি ও বিস্ময়চক্র। এর মধ্যে এফ-৬ ফাইটার জেট জঙ্গিবিমানটি ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সহায়তায় স্থাপন করা হয়। এছাড়া পার্কে একটি ঝরনা রয়েছে। এই ১১ রাইডের সঙ্গে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি খেলনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৯-ডি অ্যানিমেশন ও দুটি ঝুলন্ত নৌকার খেলনা রেখেছে। সম্প্রতি পার্কটিতে গিয়ে এর প্রধান ফটক বন্ধ দেখা গেছে। ভেতরে চলছে উন্নয়ন কাজ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, উন্নয়ন কাজ চলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পার্কটি বন্ধ থাকবে। নানা ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতার পরেও প্রতিদিন পার্কটিতে গড়ে সাত হাজার দর্শনার্থী আসতো। এ থেকে বছরে সিটি করপোরেশনের আয় হয় সাড়ে চার কোটি টাকা। আধুনিকায়নের পর দর্শনার্থী বাড়ার পাশাপাশি আয়ও বাড়বে। 

সিটি করপোরেশন বলছে, প্রায় ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ পার্কের ড্রয়িং ও ডিজাইনে অনেক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পার্কটি বিভিন্ন সময় স্থানান্তরের কথা বলা হলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে। পার্কের আধুনিকায়নের পাশাপাশি বাড়বে এর আয়তনও।

জানতে চাইলে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক সার্কেল) আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিশু পার্ক স্থানান্তর করা হচ্ছে না, বরং আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পার্কের রাইডগুলো অনেক পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য সরকার একে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদফতর তাদের কাজ শুরু করেছে। আমাদের কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। টেন্ডার শেষ হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে রাইডগুলো চলে আসবে। এরপর কাজ শুরু হবে। সংস্কার কাজ শেষ হলে পার্কের চেহারাই বদলে যাবে।’



/ওআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী