ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, আমরা অনেক দূরে যেতে চাই। আর কোনও অন্যায় সহ্য করা হবে না। আপনারা অতীতের ত্রুটি-বিচ্যুতির ব্যাপারে সতর্ক না হলে পরিণতি ভালো হবে না। আপনাদের যার যেখানে দুর্বলতা আছে তা এক্ষুণি শোধরান। তা না হলে পরিণতি খারাপ হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসার দাফতরিক ও উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা, পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অনেক দিনের অবজ্ঞা, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে নাগরিক সেবা প্রদানকারী সংস্থার ওপর মানুষের আস্থা উঠে গেছে। এখন আর পেছনে ফিরে তাকানোর সময় নেই। নতুন উদ্যমে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ও দুর্নীতিমুক্ত থেকে নাগরিকদের সেবা দিতে হবে। এ বিষয়ের ব্যতয় ঘটলে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।
তাজুল ইসলাম বলেন, আগামীতে আমরা অনেক দৃশ্যমান কিছু দেশকে দিতে চাই। দেশকে একটি ভিন্ন অবস্থায় নিয়ে যেতে চাই। আমরা সবাইকে সমান সেবা দিতে চাই। আমাদের জন্য একদিন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ছিল চ্যালেঞ্জ। সামনের দিনে বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আমাদেরকে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করতে হবে।
ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে নাগরিক ভোগান্তির জন্য মূলত অব্যবস্থাপনা দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা শুধু শহরে নয় গ্রামেও সকল নাগরিক সুবিধা পৌঁছানোর অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। সকল ধরনের নাগরিক ভোগান্তি হ্রাস করে বসবাসযোগ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবহেলা-অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে।
ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আমরা শীঘ্রই বসবো। আশা করি ঢাকাবাসী একটি কার্যকর সমাধান উপহার দিতে পাবে।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, ঢাকা ওয়াসা ঢাকা মহানগর ও নারায়ণগঞ্জ শহরের ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১ কোটি ৭০ লাখ নাগরিকের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ করছে। দৈনিক ২ শত ২০ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ২৪২ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করছে। ঢাকা ওয়াসার সিস্টেমলস বর্তমানে শতকরা ২০ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। ভূ-উপরিভাগের পানির উৎস হতে পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে পদ্মা-যশোলদিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্প, ৭০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার ও ৫ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে তেতুঁলঝরা-ভাকুর্তা ওয়েফিল্ড প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়।
সভায় ২০২৮ সালের মধ্যে ১৮৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-৩, পদ্মা-যশোলদিয়া পানি শোধনাগার ফেজ-২ ও গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার ফেজ-২ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলে অবহিত করা হয়। পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্যুয়ারেজ মাস্টার প্ল্যানের আওতায় দাশেরকান্দি, মিরপুর, উত্তরা, রায়ের বাজার, পূর্বাচল, পাগলা, নারায়ণগঞ্জ, কেরানিগঞ্জ, সাভার, টঙ্গী ও গাজীপুরে মোট ১১ টি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনে প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে অবহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক, ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার তাকসিম এ. খানসহ মন্ত্রণালয় ও ঢাকা ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








